রথের প্রসাদ বনফুল অণুগল্প



রথ দেখে বাড়ি ফিরছিলাম, রাস্তার দুধারে রথের মেলার পশরা সাজান দোকান আর দর্শকদের ভিড়। বাড়ির কাছাকাছি এসেছি কানে এলো, - কাকু কেমন আছো? তাকিয়ে দেখলাম আমার বন্ধু সেলিমের পুত্রবধূ আয়েশা ওদের বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে, পাশে ফারজানাভাবি। সেলিমের ছেলে সহিদুল স্ত্রী আয়েশা, ছেলে হারুন ও মেয়ে সেঁজুতিকে নিয়ে কর্মসূত্রে দুবাইয়ে থাকে। বাচ্চা দুটো ওখানকার স্কুলেই ভরতি হয়েছে। প্রতি বছর রমজান মাসে ঈদের ছুটিতে ওরা বাড়ি আসে, এবারেও তাই এসেছে।

আয়েশাকে জিজ্ঞাসা করলাম, - তোমরা কবে এসেছ, ভাল আছ তো সবাই? ‘হ্যাঁ কাকু, আমরা সবাই ভাল আছি, আমরা এই শুক্‌কুর বারে এসেছি।‘ বলে আয়েশা আমার দিকে হাত বাড়িয়ে বলল, ‘কাকু একটু রথের প্রসাদ খান।‘ আমি হাত পাতলাম ও আমার হাতে একটা সন্দেশ প্রসাদ দিল। এবার দেখলাম সেঁজুতি তার ছোট্ট এক হাতে ওর দাদির হাত ধরে আর এক হাতে একটা খেলনা রথের দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে আছে। খেলনা রথ হলেও রথের মধ্যে জগন্নাথ সুভদ্রা বলরামও রয়েছে, ফুল ও পূজার সন্দেশও আছে। আয়েশার কাছে হারুন তার রথের পাশে বসে আপন মনে রথের জগন্নাথ দেবের সামনে রাখা ছোট্ট থালা থেকে সন্দেশ তুলে তুলে খাচ্ছে।

আজ রথের দিনে জগন্নাথদেবের এই প্রসাদ আমার কাছে একটা বড় পাওয়া। মনে হল খেলনা নয় আমি আজ সত্যি সত্যি প্রভু জগন্নাথ দেবের প্রসাদ পেলাম।

0 comments

Please login First

201345
5297
2257
7
20

Writers’ list