তফাত রুপে ( বনফুল অণুগল্প)

কে জানে এরা সারাদিন কোথায় থাকে? সবে মাত্র সন্ধ্যা নেমেছে, ছোট দুটিকে নিয়ে অপরিসর কার্নিশে হাওয়া খেতে বেরিয়েছে। বৈদ্যুতিন আলোয় অন্ধকার তেমন নেই, গাছগাছালি আর পাশাপাশি বাড়ীর ছায়ায় যতটুকু। ছোটদুটি হাঁটতে পারে তবে দৌড়ানোতে নিশ্চই অপটু, তাই হয়ত মায়ের সাথে। বেশ ঘোরাঘুরি আর খুনসুটি চলছিল, মাতৃভবনের যেদিকটায় আলো খুব কম। কিন্তু, সব সন্ধ্যা তো সমান যায়না। নিচে দুই পাহারাদার, সন্ধ্যাথেকে বেশী চঞ্চল হয়ে ওঠে, কিছু নজরে পড়লেই পাড়া মাথায় করে তোলে। এদিক, ওদিক চারধার, যেন গুপ্তধণের খোঁজ পেয়েছে, তারউপর বেপাড়ার কাউকে দেখেছে তো, রণং দেহি ।
অপরিসর কার্নিশে খুনসুটির ফল এতটা মারাত্মক হবে সেটা হয়ত ভাবেনি, একজন পড়ে যায় নিচে, আর দুই পাহারাদার ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধজয় করে। একজনের এই অবস্থা দেখে, আর একটাকে পেটের তলায় আগলে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে। দুই পাহারাদার একটু সরতেই, ওরা সরেযায় কোণার দিকে, একটা কলা গাছের পাতার আড়ালে। মাঝে মাঝে নিচের দিকে ঘাড় ঝুঁকিয়ে দেখতে থাকে, হয়ত বুঝবার চেষ্টা করছে, ওকি ফিরবে বা বুঝে গেছে ফিরবেনা। অন্যটি এর মধ্যেও তার খাবার খোঁজে। পরম আদরে বুকের নিচে আগলে অমৃতের স্বাদে ভরিয়ে দেয়। খুব একটা তফাত বোধহয় নেই উন্নততর প্রাণীর সাথে, তফাত রুপে। এরা নিরামিষাশী, দেখতেও সুন্দর নয়, ফলেই জীবন ধারন, গৃহস্থের ঘর বা বাগান যেখানেই পায়। রাত বাড়ে, ফেরা হলনা অন্যটির, উষ্ণতার আশ্রয়ে। বাকিটা অজানা।
0 comments

201653
5298
2257
7
20

Writers’ list