Prose Details
সঙ্গী
কাটুমের একটা দাঁত আছে যে কাটুমের থেকেও খামখেয়লি বেশি। বাঁ চোয়ালের শেষ দাঁতটি। কাটুম যখন তন্বী, চোয়াল বেশ কাটাকাটা ঠিক তখন এই দাঁতের বেয়াদবি শুরু। পড়াশুনা শেষ করে বেশ সুন্দর সেজেগুজে আপিস যায়। মেট্রোতে অপেক্ষমাণ কয়েকটি চোখ রোজই নজরে পরে।মনের কোনায় অহঙ্কার বাসা বাঁধে। হয়তো বেশি গম্ভীর থাকার জন্য কেউ এগিয়ে এসে কথা বলার সাহস পায়না। ঠিক এমন সময় এই বেয়াক্কেলে দাঁতের মনে হলো আক্কেল শেখাবে কাটুমকে। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। নতুন করে বাড়তে থাকলেন তিনি। গাল ফুলে গোবিন্দর মা। ডাক্তার বলল "wisdom tooth "।মানে বাংলা ভাষায় আক্কেলদাঁত আরকি!আপিসে ছুটির দরখাস্ত। দুধসুজি আর এত্ত ওষুধ নিয়ে বাড়িতে গ্যারেজ। বিশেষ বন্ধুটির সাথে সব আ্যাপো ক্যানসেলড।মোবাইল নামক যন্ত্রটি তখনও আসেনি। বোরস্য বোর পুরো।
সে যাত্রায় ওষুধের হাত ধরে তরণী পার হলো। দাঁত রেহাই দিল বেশ কয়েক বছর। ঠান্ডা লাগলে একটু ব্যাথা, অল্প ফোলা এভাবে ম্যানেজ হচ্ছিলো। প্রেম ম্যানেজ করতে গিয়ে ততদিনে বিশেষ বন্ধুকে আইনত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নতুন শ্বশুরগৃহ। দাঁত আবার নড়েচড়ে বসলো। নতুন বউ গাল ফুলিয়ে বসে পরলো।' ডাক্তার ফস্টার ' খুঁজে মুখ হাঁ করে আলোর সামনে বসে পরতে হলো। সে যে কি কাটাকুটি করলো কে জানে। হাঁ-গাল কেটে রক্তারক্তি।নব্য শ্বশ্রূমাতা বাঁকা হাসি হেসে বলল,
"ঠোঁটের কোনায় কালো দাগ হয়ে থাকবে। আর যাবেনা। " যত্তসব মন খারাপ করানো কথা। দাঁতের থেকেও ঠোঁটের কোন সারতে সময় নিলো বেশি। "দাগ থেকে যাবে " বাক্যটি মনের মধ্যে তখন ডিস্কো নাচন নাচছে। তাই মনের ব্যাথা সাড়তে আরও সময় লাগলো। দুধ সুজির পোয়াবারো তেরো। এরমধ্যে ছিলো প্রথম জামাই ষষ্ঠী । বিশেষ বন্ধুটি জম্পেশ করে সাত পদ খাচ্ছে আর কাটুমের ভাগ্যে গলাভাত আর সুজি। কেমন শয়তান দাঁত বোঝো! অরিজিৎ সিংয়ের গান তখন জন্মালে দাঁতের জন্যই কাটুম সাহস করে একবারের জন্য গান গেয়ে দিতো "বোঝেনা সে বোঝেনা ..... " ।
যাক সবকিছু সামলে সুমলে নিয়ে কাটুম তখন প্রবাসী। নতুন দেশ। ভালোই লাগছে সব। দাঁতকে শায়েস্তা করতে ততদিনে কাটুম বরফ, আইসক্রিম,ঠান্ডা পানীয় ইত্যাদি বর্জন করেছে। কিন্তু বেয়াদব হলে যা হয়। কয়েকবছর চুপ থেকে আবার ঝামেলা শুরু করলো সেই দাঁত। এবার আরও ভয়ঙ্কর ব্যাথা। ডাক্তার বললো দাঁত শেকড়ের মতো বেড়ে গালের দিকে রওনা হয়েছে। গাল ভেদ করে বেড়োবার প্রচেষ্টা মনেহয়। সুতরাং অপারেশন। সে ঘন্টাখানেকের অপারেশন পর্ব শেষ করে তাকে কেটেকুটে বাদ দেওয়া হলো। নিস্তেজ হয়ে বাড়ি এসে একলা ঘরে কান্না পেলো খুব। কে রান্না করবে, কি খাবে এসব চিন্তা। চোখ কখন বুজে গেছে ধকল আর ওষুধের কেরামতিতে। ডাকাডাকিতে ঘুম ভেঙে দেখলো কাজ না জানা লোকটি মানে হাবি টি ইনস্ট্যান্ট স্যুপ বানিয়ে নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে মুখের সামনে। সবকিছুর মধ্যে এটি একমাত্র ভালোলাগার, বলা যায় বেজায় ভালোলাগার। কাটুম এবার নিশ্চিন্ত, কেটে ছেঁটে দেওয়া হলো আর জ্বালাতন করবে না।
ওমা! বছর দশেক বাদে এই সেদিন কলকাতা থেকে দিল্লী আসবে আবার শুরু যন্ত্রণা। ঠিক রাতের বেলায় ।পরেরদিন ভোরের ফ্লাইট। ওষুধপাতি নিয়ে প্লেনে, তারপর দিল্লীতে পা দিয়েই ডাক্তারের খোঁজ শুরু।কোথায় ভেবেছিল দিল্লীহাট টুক করে ঘুরে আসবে! তা নয় ডাক্তারের টিকি খোঁজা।
বেলা হয়ে গেছে +লাঞ্চটাইম+ এক ডাক্তার কনফারেন্সে ব্যাস্ত+ কারোর দেওয়া ডাক্তারের আ্যাড্রেসই খুঁজে পাওয়া গেলনা + এক ডাক্তার বিকেল ৫ টার আগে দেখবে না = কোনো ডাক্তার না পেয়ে মেডিসিন শপের শরণাপন্ন। তারা দিলো এক ডাক্তারনীর খোঁজ।টোটো চেপে কাটুম উপস্থিত। সে বলল, সেই যে আগে অপারেশন হলো। তার ফলে পাশের দাঁতের রুট আলগা হয়ে গেছে। সে আর সাপোর্ট পাচ্ছেনা তাই তিনি স্বাধীন হয়ে বিদায় নিতে চান। তাই তাড়না করছে। বোঝো কান্ড! যে দাঁত গেছে সে গেছে কিন্তু যাওয়ার আগে পাশের দাঁতকেও বিপ্লবী হওয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছে। কাটুম হা করে বসে পরে বলল, "দিন উপরে শয়তান দাঁতটাকে। বড্ড জ্বালাচ্ছে।" ডাক্তারনী বললেন, "নিশ্চই। আগে ব্যাথা কমে যাক।" ঘসঘস করে ওষুধের নাম লিখে দিল। এখানেই শেষ নয়। আরো কি কি করলে বাকি দাঁত ঠিক থাকে তার উপদেশ দিয়ে হাজার কুড়ি টাকাট ফিরিস্তি শুনিয়ে দিলো। শেষে বলল আমি বেশি নিইনা।
মুখের মধ্যে সেই দাঁতের এখন যা অবস্হা তার থেকে মনে হয় ভারতবর্ষে কাশ্মীর সমস্যা অনেক সহনীয়। অমন এক আপদ দাঁত বিদায় করতেও নাকি হাজার দুয়েক গচ্চা দিতে হবে। কাটুম প্রাণপণ চেষ্টা করছে ছোটোবেলার মত নাড়িয়ে, দাঁতের ঝুটি ধরে তুলে ফেলতে আপদ বালা কাটে আর হাজার দুয়েক টাকা নিয়ে ব্যাথাহীন হাসি মুখে বুটিকটায় গিয়ে সেই পছন্দ হয়ে যাওয়া শাড়িটা কিনে আনে।
Pray for Katum এর দাঁত। Creat a #.....
0 comments
Add your comment here
Use the following form to leave your comment on this prose
Statistics
| Number of VISITORS | 167519 |
| Number of REGISTERED USERS | 5277 |
| Number of Writers | 2244 |
| Total Number of Poems | 5 |
| Total Number of Prose | 20 |

