New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose

অফিসের কাছেই বুড়োদার দোকান। বুড়োদা ঠিক, বুড়ো বলে নয়। তবে বয়েস হয়েছে। ষাট না হলেও পঞ্চান্ন- ছাপ্পান্ন তো হবেই। যাক, বয়েস নয়, বলতে যাচ্ছিলাম তাকে নিয়ে,তার দোকানকে নিয়ে। লোকটা বকবক করে খুব। তবে, খবর রাখে সবকিছুর। হঠাৎ করে শুনলে মনে হবে, অসংলগ্ন এলোমেলো। কিন্তু, মন দিয়ে শুনলে বোঝা যায়, বাঁধন আছে, কথাবার্তায়। যে কোনো বিষয়, সে সামান্য হোক কিংবা অন্য কিছু,বলার গুণে হয়ে ওঠে, সুন্দর, মনোগ্রাহী।

ছোট্ট দোকান। তবে, অভাবী। কারণ, ইঁট বালি দিয়ে পাকাপোক্ত ভাবে গাঁথা নয়। কোনোরকমে টিন দিয়ে দেওয়াল তুলেছে চারদিকে, এমনকি ছাদটাও, সেই একই টিনের। ডিম-পাউরুটি, ম্যাগি ওমলেট আর চা-বিস্কুট এটাই মাত্র বিক্রির সম্বল, তার দোকানের।

আজ রোববার। পাশের কলেজ বন্ধ। অফিস খোলা থাকলেও,স্কেলিটন স্টাফ মাত্র। তাই দোকানটায় ভিড় নেই, একদম।

ম্যাগি, ওমলেট আর চায়ের অর্ডার দিয়ে সকালের সুপ্রভাত জানানো,হোয়াটসঅ্যাপ ম্যেসেজের উত্তর দিচ্ছিলাম।

কেউ একজন একটা ভিডিও পাঠিয়েছে, গানের।
সকাল সকাল ভিডিও বেশ বিরক্তিকর। কারণ, সময় নেয় অনেকটা। আর, বিলোনোর মতো সময় নেই, আমার হাতে।

যাই হোক, প্রতি উত্তরে, টাচ করতেই গান বেজে উঠলো, একটুখানি, "যদি তোর হৃদ যমুনা"। ডিলিট করবো বলে যেই বন্ধ করতে গেছি, বুড়োদা বললো, গানটা চালান না, স্যার। "শুইনতা ইচ্চা করতাছে।" অগত্যা চালালাম। গান শেষ হতে সে বললো, "কথাগুলান কি সুন্দর না! চোক্ষে জল চইলা আইলেও মনডায় কেমন শান্তি পাওন যায়। আচ্চা এইডা কি শ্যামা সঙ্গীত?"

বললাম,না। খুব সম্ভব অতুলপ্রসাদের। সুরটা ওই একই রকমের বলে, ওরকম মনে হচ্ছে। তবে,পুরোনো গান, লোকে আর শোনে কোথায়! সবই তো হারিয়ে যাচ্ছে।

উত্তরে সে বললো,
"স্যার, শুধু গান ক্যান,আমরাও তো হারায়ে যাবো, একদিন।"

Samir Pramanick

 

0 Comments | 0 Claps


“ইন্দি, তখন থেকে দুধের গ্লাসটা হাতে নিয়ে বসে আছিস, তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে ঠাম্মির কাছে পড়তে বস। সারা দিন দুষ্টুমি আর দুষ্টুমি, কবে যে স্কুল খুলবে!” শাশুড়িকে সান্ধ্য চা বিস্কুট দিয়ে শর্মিষ্ঠা ভেতর ঘরে গিয়ে বসল। ইন্দির ঠাম্মি সুমিতা সেন শিক্ষিকা ছিলেন, বছর দশেক হল অবসর নিয়েছেন, স্বামী আগেই গত হয়েছেন। বাড়ির সবার আর ঘনিষ্ঠদের ইন্দিই ওদের স্কুলের ক্লাস নাইনের গুড গার্ল ঐন্দ্রিলা সেন। ইন্দি সন্ধ্যায় কার্টুন আর ডিসকভারি চ্যানেল দেখতে দেখতে দুধ খেয়ে তার ঠাম্মির কাছে পড়তে বসে। রাতে বাবা মা ইন্দি ঠাম্মি সবাই একসাথে খেতে বসে, তখন সারা দিনের জমে থাকা গল্প হয়, অফিসে কোন মজার ঘটনা হলে বাবা শোনায়। ইন্দিও শোনায় আজ দুপুরে তারা কি খেয়েছে, অনলাইন ক্লাসে ম্যাম তাকে কি বলেছে, এই সব। খাওয়া দাওয়ার পর ইন্দি আবার ঠাম্মির ঘরে চলে যায়। বাবা মা পাশের ঘরে শোয়। খাওয়ার পর খানিকটা পড়াশোনা করে সে ঠাম্মির পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে। ইন্দি ঠাম্মির কাছে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমায়, এটা তার সেই ছোট্ট বেলা থেকেই চলে আসছে। ইন্দির শুতে আসা পর্যন্ত ঠাম্মিও তাই জেগে থাকে।

ঠাম্মি শুয়ে আছে, ইন্দি ঠাম্মির পাশে একটা চেয়ারে বসে পড়ছে, “সিন কিউ সমান লম্ব বাই অতিভুজ, সিন কিউ সমান লম্ব বাই অতিভুজ।” ঠাম্মি বললেন , - ইন্দি তুই কী পড়ছিস?
- ত্রিকোণমিতি।
- হা কপাল, অনলাইনের ক্লাসে ছেলেমেয়েরা এই রকমই শিখছে। এস আই এন লেখা থাকলেও ওটা পড়তে হবে সাইন, আর যেটাকে কিউ বলছিস ওটা হচ্ছে থিটা, কিউ নয়। এখানে থিটা হচ্ছে কোণের মাপ, তুই পড়বি সাইন থিটা সমান লম্ব বাই অতিভুজ, বুঝলি?
- থ্যাঙ্কু ঠাম্মি। সাইন থিটা সমান লম্ব বাই অতিভুজ, সাইন থিটা সমান লম্ব বাই অতিভুজ।

আর একটু পড়ে ইন্দি ঠাম্মির পাশে শুয়ে পড়ল।
- ঠাম্মি, তুমি রোজ সেই রাজা রাণী, সুয়ো দুয়ো, রামায়ণ মহাভারত আর গোপালভাঁড়ের গল্পই বলো, আজ নতুন কিছু বলো।
- কি গল্প বলব বল, দিদিভাই আমি কী তোদের মতন অত গল্প জানি?
- তোমার ছোটবেলার গল্প, দাদুর গল্প বলো।
- ঠিক আছে আমার ছোটবেলার একটা গল্পই আজ তোকে শোনাই।খুব ছোট্ট বেলায় মায়ের সাথে মাসীর বাড়ি গেছি। ওখানে ঝিমলিদি আমার সঙ্গী ছিল, ওর সাথে খেলা করতাম, ঘুরতাম। একদিন সকালে ঝিমলিদি স্কুলবাসে উঠলো আর বাস ছেড়ে দিল, ঝিমলিদি আমাকে নিয়ে গেলো না বলে কাঁদতে কাঁদতে আমি বাসের পিছু পিছু ছুটলাম আমিও যাব বলে। এদিকে বাড়িতে অনেকক্ষণ আমাকে দেখতে না পেয়ে সবাই আমার খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিয়েছে। বাস অনেক দূরে চলে গেলে আর বাসটাকে দেখতে না পেয়ে আমি একটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদছিলাম। মেসোমশাই বাজার থেকে ফেরার সময় আমাকে ওখানে দেখতে পেয়ে বাড়ি নিয়ে এলো। তারপর থেকে যে কদিন মাসীর বাড়ি ছিলাম ঝিমলিদি স্কুল যাবার সময় মা আমাকে ঘরে আটকে রাখতো।
ইন্দি, শুনছিস?
ইন্দি তখন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বিড় বিড় করে বলে চলেছে “ সিন কিউ সমান লম্ব বাই অতিভুজ, সাইন থিটা~~~~।
ইন্দি ঘুমিয়ে গেছে দেখে ঠাম্মি চাদরটা ওর গায়ে ঠিক করে ঢাকা দিয়ে দিলেন।
২৫/০৯/২০২১

SANJIB KUMAR SINHA

 

0 Comments | 0 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 1032871

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1751

Total Number of Poems : 31974

Total Number of Prose : 1215

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS