New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose

অক্ষমের আস্ফালন
-------------*-------------

দেবপ্রসাদ বসু
১২/১২/২০১৯


বাঘের সাথে সিংহ কিম্বা সিংহের সাথে বাঘের টক্কর তবুও মানায়। কিন্তু যখন হায়না-শৃগাল বাঘ-সিংহের সাথে টক্কর নিতে উদ্যোগী হয় তখনই হয় সমস্যা। তখন সেটা মানায় না। একটু বিসদৃশ বা দৃষ্টিকটু ঠেকে। এবং আশঙ্খারও কারণ হয়। মজার ব্যাপার হ'লো, নিম্নমানের রুচির পথিক হওয়ার কারণে তাদের আত্মসমালোচনা না থাকার দরুন আত্মগ্লানিও আসে না। ফলত সে বা তারা নিজেদেরকে কেউকেটা ভাবতে থাকে অর্বাচীন চিন্তার দৌলতে। একবার হলো কি, কয়েকটা হায়না-শৃগাল দল পাকিয়ে বাঘ-সিংহের সমালোচনা, নিন্দে করতে থাকলো। আগে তবু লুকিয়ে চুরিয়ে নিন্দে করত। এখন হ'লো কি, তাদের পিছনে কিছু মদতদাতা জুঠে যাওয়াতে সাহস বা বুকে বল পেয়ে নতুন উদ্যমে সেই নোংরা এবং সস্তা কাজটাই করতে থাকলো। বলতে বা প্রচার করতে থাকলো, বাঘ-সিংহরা কেন অহেতুক নিরীহ তৃণভোজী গুলোকে যখন তখন মেরে-মেরে খাবে। প্রশ্ন তুলতে থাকলো এ বিষয়ে বাঘ-সিংহের এক্তিয়ার নিয়ে। আসলে তাদের যে বাঘ-সিংহের শিকার করা উচ্ছিষ্ট খেয়েই জীবন যাপন করতে হয়। তাদের তো আর বড় বড় শিকার করবার ক্ষমতা বা যোগ্যতা নেই। এই আফশোস দিবারাত্র তাদের কুরে কুরে খায়। এটা বোঝে না বা তাদের বোঝানো দায় যে, বাঘ-সিংহের উচ্ছিষ্ট খায় বা খেতে পায় বলেই তো তারা একটু বড় কিছুর স্বাদ পায়। নিজের প্রতি লজ্জা বা ঘৃণার লেশমাত্র তাদের মধ্যে নেই। থাকলে জোর কদমে আত্মসমালোচনা করত বা চিন্তা-চেষ্টা করত কিভাবে নিজদের শক্তি বৃদ্ধি ক'রে যোগ্যতা বৃদ্ধি করা যায়। ভুলে যায় তারাও কিন্তু ঘাস পাতা খেয়ে বাঁচে না। ক্ষমতা অনুযায়ী ইঁদুর-ছুঁচো খেয়েই শান্ত ও তৃপ্ত থাকতে হয় তাদের। কিন্তু নির্বুদ্ধিকে জ্ঞান দেয় কার সাধ্য। সে দল পাকাতে থাকে কিভাবে অন্যের নিন্দে ক'রে নিজের বা নিজেদের অক্ষমতাকে ঢেকে রাখা যায়। কিন্তু তা কি সম্ভব! অন্যের নিন্দে সমালোচনা না ক'রে নিজের বা নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি ক'রে কিভাবে একটু বড় জাতের ইঁদুর-ছুঁচো শিকার করা যায় তার চেষ্টা না করে অন্যের পিছনে পড়ে আরও শক্তি ক্ষয়ের রাস্তায় হাঁটতে থেকে হাস্যস্পদ হতে থাকল। সেটা তারা বুঝলো না বুদ্ধির অক্ষমতার কারণে। আসলে অপবুদ্ধি বা হিংসেবুদ্ধি যার যেটুকু বুদ্ধি আছে সেটুকুও নষ্ট করে দেয় এ ধ্রুব সত্য অবোধকে বোঝানোই দুষ্কর। সংখ্যা ও উৎকৃষ্টতার মধ্যে সংখ্যকেই তারা উপাদেয় মনে করে। ভাবে, অনেকে একসাথে চেঁচালে বুঝি মিথ্যেটা সত্যি হয়ে যায়। প্রকৃতিতে সব কিছু দেখে অনেকে কিন্তু তার অন্তর্নিহিত অর্থ বোঝে না বা বুঝতে চেষ্টা করে না বা সামর্থ থাকে না অনেকেরই। বাঘের দু'টো এবং সিংহের বাচ্চা হয় একটি। অন্যদিকে হায়না শিয়াল কুকুরের বাচ্চা জন্মায় অসংখ্য। এতগুলো এন্ডা-গন্ডা দেখে ভাবে, সমস্বরে দল পাকিয়ে চেঁচালে বুঝি বাঘ সিংহরা ভয় পেয়ে যাবে। কিন্তু প্রকৃতির কি বিধান! হায়না শেয়াল কুকুরের আর কোনদিনই বাঘ সিংহ হয়ে ওঠা হয় না। পাশাপাশি অন্যের উৎকর্ষতা দেখে হিংসেয় জ্বলে পুড়ে তাদের চেঁচামেচিও চলতে থাকে আবহমানকাল ধ'রে।

এই পর্য্যন্ত ব'লে চুপ করে গেল পিয়নপাখি, শান্তির পাখি পায়রা। সকলে এর ওর মুখের দিকে তাকিয়ে যেন নিজের নিজের যোগ্যতা ও করনীয় মাপতে থাকল। অরণ্যে সাময়িক নিস্তব্দতা নেমে এলো। এমন সময় একটা হায়না পিছন থেকে যেন বাজপাখির ছোঁ মারার কায়দায় পায়রাটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল অরণ্যের পশু পাখিদের এই জ্ঞান দেওয়ার জন্য হায়না শিয়াল কুকুরের নিন্দে ক'রে। পিছনে একটা ঝোঁপের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে ছিল সে। এটা তো ঠিক, জগতে আর যাই হোক না কেন, অক্ষমতা,--- নিন্দে মন্দ একেবারে পছন্দ ও সহ্য করতে পারে না। ক্ষমতার বাইরে গিয়ে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু বাপেরও বাপ থাকে, শক্তিরও শক্তি, বুদ্ধিরও বুদ্ধি। ওদিকে ঝোঁপে লুকানো হায়নাটার প্রতিও লক্ষ্য রাখছিল একটা সিংহ। সে তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ গতিতে ঝাঁপিয়ে প'ড়ে হায়নাটার টুঁটি ধরে গভীর জঙ্গলে সেঁধিয়ে গেল। সবাই হতবাক সহসা বিপদ ও বিপদ মুক্তির চিত্রনাট্য দেখে। ভাবল, একেই বলে বনের রাজা ----- সিংহ। তার সাথে কিনা টক্কর নিতে যায় ছিঁচকে হায়না!


* * * * *

দেবপ্রসাদ বসু (উপাসক)

 

0 Comments | 0 Claps
মাঝে মাঝে খুব ভাল লাগে। ভারশূন্য লাগে।
কোন প্রেমিকা নেই। সংসার নেই। সমাজ নেই। অপেক্ষা নেই। আগমন নেই। দায় নেই। দায়িত্ব নেই। পেছনে কেন ছিলাম? সামনে কেন এগোব? কাল না থাকলে কি ক্ষতি হবে? এতদিন কতটুকুই বা কেনই বা এ পৃথিবীতে ছিলাম?
ভাবতে ভাবতে হাঁটা বাড়িয়ে দেয় শশীকান্ত।
সবে তো সন্ধ্যে। চাঁদ সেই একই রকম হাসে। রাস্তার স্টোনচিপ্স পায়ে খেলা করে। ভিড়ের মাঝে ঠেলা লাগে। মানুষের মত কতজন পিলপিল করে হেঁটে যায়।
গাছের পাতা ঝরে পড়া দেখতে মাথা তোলে শশীকান্ত। তার ছেলেটাও বড় হয়ে ওই দূরের উঁচু ব্লিডিংএ উঠে গেল। মেয়েটাও নিজের হাতের পোয়া বারো। আর মিসেস এখন প্রভাবশালী।
সামনের ফাঁকা মাঠ, মাঠের ঘাসগুলো সব কোথায় গেল?
এসব দেখে শশীকান্তও শিখে গেছে এখন ঘাসফুলে ফড়িং খোঁজা বারণ। একটু ঝুঁকে মূর্তি বানানো ঠিক না। উপকারের ফাণ্ডা পেতে হলে বা দিতে হলে পার্টি করো না হলে কেটে পড়ো। ফন্দি ফিকিরেই আকাশ দেখতে হয়। জল মাটি বাতাস পেতে হয়। দিতে হয়।
এখন শশীকান্ত তাই মাথা নাড়া শশীকান্ত। নির্বাক চলতে থাকা মাঝবয়সী মানুষের মত একজন। শত্রু মিত্র পবিত্র সর্বসিক্ত এরকম মিল খুঁজে পাওয়া দু চারটে শব্দ। কিংবা দু পাঁচটা উচ্চারণ মাত্র।
অফিসের চেয়ারে দেনা পাওনার হিসেবে খাওয়া জুটিয়ে নেয় শশীকান্ত। আর বাড়ি ফিরে সেই আর পাঁচটা সাংসারিক বাঙালির মত। সাধারণ।
ছাদে উঠে আকাশের দিকে শশীকান্ত তাকিয়ে ভাবে সেই আগের মত দায়িত্ব কর্তব্য প্রেমিকা অপেক্ষা আগমন ইত্যাদি সমস্ত কিছু আর কি ফিরে পেতে পারে না?
আর যে এই নাই নাই শশীকান্তকে শশীকান্ত সহ্য করতে পারছে না। প্রাণের সম্মিলনীতে মিশতে চায়।

দীপঙ্কর বেরা

 

0 Comments | 0 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 554723

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1602

Total Number of Poems : 26077

Total Number of Prose : 842

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS