New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose

সোনালী হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। সে বাবা -মা এর সাথে কথা বলতে সময় পায় না কেন না প্রেমিকের সাথে কথা বলতে সে ব্যস্ত থাকে। যদিও কথা বলে সপ্তাহে দুই - তিনবার তাও আবার এক -দুই মিনিটের বেশি না। 

বাবা মা প্রাণখুলে মেয়েটার সাথে কথা বলতে চাইলেও সোনালী ব্যস্ততা দেখিয়ে "ঠিক আছে রাখছি " বলে ফোনটা রেখে দেয়।
কখনো বান্ধবীদের সাথে আলোচনা করে," বাবা মা এর সাথে কথা বলি তো শুধুই সময় কাটানোর জন্য তাও ইলেকট্রিক যখন থাকে না"।


একদিন সোনালীর সাথে তার প্রেমিকের সম্পর্ক্য ভেঙে যায় ।

সোনালী বুঝতে পারল, সে তার প্রেমীকের কাছে একঘেয়েমি হয়ে গিয়েছিল। তখনই হঠাৎ তার মনে পড়ে গিয়েছিল বাবা- মা এর কথা।

উপলব্ধি করল, কখনো বাবা- মা এর কাছে তাদের সন্তান একঘেয়েমি হয় না। প্রকৃত নিঃশর্ত ভাবে তাকে ভালোবাসে শুধুমাত্র তার বাবা -মা।

সে তখনই বাড়িতে ফোন করল, প্রাণখুলে বাবা মা এর সাথে কথা বলতে।

Sukanta Mandal

 

0 Comments | 0 Claps
কথাগুলো ঝড়ের গতিতে বলেই ঠিকরে বেরিয়ে যায় বউমা ঘর থেকে। ভবিতব্য!
ঠিক-ভুলের বিচারে নিজেই এখন ক্লান্ত অমলা।
জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কতকিছুর সঙ্গে লড়াই চালাবেন? বয়সটাও অনেক হল।
প্রায় চল্লিশবছর আগের কথা, তাকে ফিরিয়ে নিতে স্বামী নিজেই এসেছিলেন। তখন পায়ে ধরে সাধাসাধি। প্রচন্ড লজ্জা-ঘেন্নায় অমলা মাটির দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। একইঞ্চি টলেননি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে। শশুরবাড়ির মানুষজন তাকে কিভাবে সারাক্ষণ অপমান...., ভাবলেই মাথায় আগুন জ্বলে ওঠে!
এতবছর পরে.... সেই একই প্রশ্নের মুখোমুখি!
ছেলের সংসারে বউমাই শেষকথা বলবে, এটাই বাস্তব। তবে এই সংসারে অমলার অবস্থান কোথায়? স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়িতে থেকে কিভাবে ছেলেকে মানুষ করেছেন তিনি? তবে কি সেদিন সত্যিই ভুল করেছিলেন?

PURNA

 

1 Comments | 0 Claps

মাঝে মাঝে বড় নিঃসঙ্গ লাগে। মনে হয় যেন আমার কেউ নেই। আমিও কারো নই। আমার জন্যে কেউ অপেক্ষা করছে না। অপেক্ষায় শুধু আমি, অনন্ত সময়ের... সকাল থেকে সন্ধ্যে, সন্ধ্যে থেকে রাত, রাত থেকে রাতভোর অবধি। মনের যখন এমন টালমাটাল অবস্থা তখন হঠাতই পাঁচজন বন্ধুর কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেলাম ‘তালসারি’ যাওয়ার। মরা নদীতে বান যেন- লুফে নিলুম আমন্ত্রণ... বেরিয়ে পড়লুম।
আমাকে নিয়ে ছ’জনের এই দলের তিনজন আমার বয়েসি। কত? পুরনো পাঁচশো-হাজার টাকার নোটের মতো দাম আছে, তবে বিনিময় মূল্য নেই! আর অন্য তিনজন! বয়সে নবীন। তাই ভাবলাম তাদের ছোঁয়ায় যদি নিজেকে একটু তাজা করে নিতে পারি! হাওড়া থেকে ট্রেনে উঠলাম। কিন্তু প্রথমেই একটা বিপত্তি। পাঁচজনের সীট একসঙ্গে, আর একটা আলাদা। অগত্যা আলাদা সীটটাতেই আমার অবস্থান এবং আবার সেই সর্বক্ষণের সঙ্গী নিঃসঙ্গতা। একক আমি ঠায় বসে রইলুম। দূর থেকে তাদের হাসি-ঠাট্টার আওয়াজ কানে আসছিল বটে। কিন্তু সেটা আরও একা আমাকে আরও একা করে দিচ্ছিল। এতবড় ট্রেনে... ট্রেনেরই মতো একা একা চলেছি তো চলেছি-
দুপুর বারোটা নাগাদ উড়িষ্যা ট্যুরিজিমের ‘পান্থশালায়’ পৌঁছুলুম। জায়গাটা এককথায় দারুন। ঘেরা বাউন্ডারি। ভেতরে অনেকটা ফাঁকা জায়গা। বড়ো বড়ো দুটো দোলনা। ভলিবলের কোর্ট আর গাছ-গাছালিতে অপরূপে সাজানো। বেশ কয়েকটা মরাল চলেছে “মরালী তার পাছে পাছে”- যদিও ডাঙায়! তবে, তালসারি নামটা যে কেন তা ঠিক বুঝতে পারলাম না। কারণ সারি তো দূর অস্ত! একটাও তালগাছের দেখা পেলাম না!
লাগেজগুলো ঘরে রেখেই বেরিয়ে পড়লুম সবাই মিলে, সমুদ্রস্নানে। এখানকার সমুদ্রটা একটু অন্যরকম। পাড়ের কাছটা একটু গভীর। ভাটার সময় একেবারে সামান্য একটু জল থাকে পা ভেজানোর মতো। সেখানটায় অনেকগুলো নৌকো বাঁধা আছে। ওই নিচু জায়গাটা পার হলে, বিস্তীর্ণ একটা দ্বীপ। প্রায় দেড় কিলোমিটার হাঁটতে হবে শুকনো বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে। অগুনতি লাল কাঁকড়া ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই দ্বীপে। কাছে গেলেই পায়ের শব্দে তারা লুকিয়ে পড়ছে গর্তে। চলতে চলতে অবশেষে আমরা দূরের সমুদ্রে পৌঁছুলুম। একটু দূরে দেখি জেলেরা মাছ ধরছে। ছোটো ছোটো পারসে, চিংড়ি এইসব। জ্যান্ত মাছগুলো কুড়িয়ে দিলাম তাদের ঝুড়িতে। একজন প্লাস্টিকের একটা বল নিয়ে গিয়েছিল, তা দিয়ে সবাই ‘ওয়াটার ভলিবল’ খেললাম। কতক্ষণ ধরে যে সমুদ্রে ছিলাম খেয়ালই ছিল না। সম্বিৎ ফিরল দলের একজনের কথায়, “বড্ড খিদে পেয়েছে রে। চল এবার ওঠা যাক!” যাই হোক, ভারি আনন্দে কাটল দুপুরটা। হোটেলে ফিরে, বিকেলে খেলাম দুপুরের খাওয়া।
সন্ধ্যেয় তারা পাঁচজনে গানের আসর বসিয়ে দিল । এদিকে আমার গলায় আবার অ-সুর বাস করে। তাই আমি “হংসমধ্যে বক যথা”... “অড ম্যান আউট”- বেরিয়ে পড়লাম একাই। অন্যমনস্কভাবে হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্রের ধারে। পাড়ে বসে পড়লুম। কতক্ষণ মনে নেই। কিন্তু, মনের ভেতরটা কেমন যেন তোলপাড় করতে লাগলো। খালি মনে হচ্ছে, “আমি তো চলে এলুম, ওদের বলেই এসেছি। তবে এতক্ষণে ওদের পাঁচজনের কেউই তো খোঁজ করলো না! একবারও!” নিজেকে সামনের ওই নির্বান্ধব দ্বীপটা- ডাঙার সঙ্গে যোগ নেই যার, আর জলের সঙ্গে তো কবেই আড়ি হয়ে গেছে- ওইরকম একা! বিচ্ছিন্ন বলে মনে হল। থেকে থেকে গলার কাছে কি যেন একটা গুলটি পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে। যেন একটু কাঁদতে পারলে ভালো হত। কিন্তু না, ছোটবেলা থেকেই হাজার কষ্টেও কাঁদতে পারি নি এতটুকুও! এখনো না। খালি একটা তেতো মনখারাপিয়ানা রাজত্ব করে চলেছে অনবরত। শত চেষ্টা করেও বেরোতে পারছি না তার থেকে। আচ্ছা, আমি কেন চলে এলাম ওদের কাছ থেকে? গান যদি বা না গাইতে পারি, শুনতে তো পারতাম! তাহলে তো একটু ভালো লাগতো! এখন তারাও ডাকছে না। নিজের থেকে গেলে নিজেই লজ্জায় পড়ে যাবো। তাছাড়া তাদেরও রসভঙ্গ হতে পারে! এখানে এত রাত্রে এই নির্জন সমুদ্রের পাড়ে কেই বা আসবে একটু কথা বলতে! আর কেই বা শুনবে আমার মনের কথা!
“কেন আমরা তো আছি!”
কে? মাথাটা কি খারাপ হয়ে গেল! কাদের কথা আমি শুনতে পাচ্ছি! কই কেউ নেই তো এখানে!
-“একটু ওপরে তাকাও।”
আবার! কারা! ঠিক বুঝতে পারছি না! কি করবো?
-“এই যে দেখো। আমি চাঁদ। আজ এই রাসপূর্ণিমায় সমুদ্রের বুকে নেমে এসেছি দুজনে মিলে একটু গল্প করার জন্য।”
-“নিচে দেখো। কতদূর থেকে ওই দ্বীপটাকে ভাসিয়ে দিয়ে- তোমার ঝোলানো পা দুটোর কাছে চলে এসেছি। দেখো আমি সমুদ্র! আমাদের সঙ্গে কথা বলো।”
-কি বলবো! আমার যে কিছু ভালো লাগে না! সব্বাই আমাকে তাদের কষ্টের কথা বলে হাল্কা হয়! অথচ আমার দুঃখের কথা কেউ তো শোনে না!
-এত দুঃখ কেন, তোমার! তুমি কি এই বয়সে কারো প্রেমে পড়েছ? আর, সে তোমায় ফিরিয়ে দিয়েছে!
- কি যে বলো তোমরা! প্রেমে প্রত্যাখ্যান ছাড়া আর কি কোন কষ্ট থাকতে নেই!এই যে তোমাদের মধ্যে এত সুন্দর একটা মিষ্টি সম্পর্ক! সেটা কি প্রেমের?
-তোমাদের এই দোষ! ভালোবেসে কথা বললে, তোমরা শুধু তারমধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বেড়াও! কেন শুধু বন্ধুর মতো ভালোবেসে কেউ কি কথা বলতে পারে না!
- আমি তো সেটাই বলছি। আমার সত্যিই এমন কোন বন্ধু নেই যে আমার সুখদুঃখের কথা শুনবে! আমিও তার সঙ্গে কথা বলে প্রাণের আরাম, মনের শান্তি পাবো!
-কে বললে! তোমার কোনো বন্ধু নেই!যে পাঁচজনের সঙ্গে তুমি এখানে এসেছ, তাদের প্রত্যেকেই তোমার খুব কাছের বন্ধু।
- ছাই বন্ধু! কতক্ষণ হয়ে গেলো! একা একা বসে আছি। কই তাদের একজনও তো খোঁজ করলো না একবারও!
-ভুল! আগাগোড়াই তুমি ভুল ভাবছো!তুমি নিজে নিজেই নিজেকে ভাবছো নিঃসঙ্গ! একা! আসলে তুমিই তাদেরকে সঙ্গিহীন করে চলে এসেছো!
- তাই যদি হবে, তাহলে তো তারা এতক্ষণে অন্তত ফোন করতো! অন্তত একবার!
-করেছে তো! অনেকবারই ফোন করেছে। পকেটের মোবাইলটা দেখো একবার!
- না করে নি। আচ্ছা বলছ যখন... ও তাইতো এতগুলো মিসড কল!
-বললাম না! তুমি বড্ড একগুঁয়ে আর অভিমানী। এত অভিমান নিয়ে কারোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যায়! অভিমানটা আমাদের কাছে জমা দিয়ে ওদের কাছে চলে যাও। যাও ওদের সঙ্গে মন খুলে কথা বল। আবার যদি কখনো মন খারাপের ভূত মাথায় ভর করে... ফিরে এসো এখানে- আমরা দুজনে অপেক্ষা করে রয়েছি, তোমার জন্যে...

Samir Pramanick

 

3 Comments | 1 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 203859

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1383

Total Number of Poems : 21426

Total Number of Prose : 494

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS