New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose

বটুকবাবু বছর খানেক আগে দক্ষিন ভারত ভ্রমনে গিয়েছিলেন। সেখানে দেখেছেন জনগণ এপাতে ওপাতে সেপাতে টক দই খায়। মানে ওখানে টক দই খাওয়া ভক্তিমতি বৃদ্ধার নিত্য কৃষ্ণনাম জপের মত। অথবা ধরুন মা মাসিমাদের টিভি সিরিয়াল দেখার মত। কোন কারণে একটা পর্ব মিস হলে সেদিন মুখের উপসাগরে নিম্নচাপ, ঘন ঘোর মেঘ। তাছাড়া লোক মুখে শুনে, পুঁথি পঞ্জিকা ঘেঁটে বটুকবাবু এই খাদ্য বস্তুটির বহুবিধ উপকারিতার কথা জেনেছেন। এর আগে দই কি উনি খেতেন না? খেতেন তো, চেটেপুটে খেতেন, হামলে পড়ে হাপুস হুপুস করে খেতেন। কিন্তু সেতো মিষ্টি দই। যত ডালডা মারা, ততই তো স্বাদে জম জমাট। মাস পয়লাতে গোপাল ময়রার দোকানে প্রায়শ চুপিচুপি গোটা এক ভাঁড় খেয়ে ফেলার রেকর্ডও আছে। এই কথাটা উনার গিন্নী যেন জানতে না পারে। মুখ ফস্কে আপনাদের বলে দিলাম। যাই হোক, সেই থেকে বটুকবাবু নিয়মিত টক দই খেয়ে চলেছেন। একটি দিনের জন্যেও নড়চড় হচ্ছে না। গিন্নিও অন্য যাকিছু ভুলে যাক, দই পাতার কথা ভোলে না। ভাবছেন এ আর এমন কি কথা? ঠিকই তো। সেদিন কি হল শুনুন। গিন্নী কি দরকারে একদিনের জন্য বাপের বাড়ি গেছে। যাবার সময় বলে গেছে, “এই যে দইবাবু, দুধের প্যাকেট নিয়ে এসে সস্পেনে জাল দিয়ে ঠাণ্ডা করে দই বসিয়ে দিও। কাঁচের বাটিতে সাচার রাখা আছে”। বাধ্য ছেলের মত বটুকবাবু মাথা নেড়েছেন। মনে মনে বললেন, “ফুহ! এ আর এমনকি ব্যাপার? বউগুলো যে স্বামীদের কি মনে করে? আরে বাবা এত যে রান্নাবাজির ঢক্কানিনাদ, পাঁচ তারা হোটেলে একজনও মহিলা শেফ দেখি না তো”। বটুকবাবু প্রাতঃ ভ্রমনে বেরিয়ে ফেরার পথে মন্টুর দোকান থেকে দুধের প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফেরেন। সেদিন দোকানে বড্ড ভিড়। মন্টু বলল, “দাদা, ওই বাক্স থেকে একটা প্যাকেট তুলে নাও”। বটুকবাবু তাই করলেন। এনে জাল দেওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গেলেন। তাড়াহুড়োয় প্যাকেট খুলে সাচারের ওপর ঢেলে চামচ দিয়ে নেড়েচেড়ে বসিয়ে দিলেন। প্যাকেট খোলার পরে দুধটা একটু ঘন লেগেছিল বৈকি। মনে মনে খুশি হয়েছিলেন দইটা বেশ জমাট বাধবে। হবে নাই বা কেন দশ দশটা টাকা নেয় এইটুকু দুধের জন্য। ভাবলেন এই মাজ্ঞি গণ্ডা, দুর্নীতি রাহাজানির বাজারে কিছু সততা এখনও বেঁচে আছে, তাই তো পৃথিবী এখনও চলছে। গিন্নী ফ্রিজে সবই করে গেছে, খালি গরম করে নিতে হবে। বটুকবাবু ওসবের ধার ধারলেন না। উনি দই ভাত দিয়ে দুপুরের খাবার সারবেন বলে মনস্থ করলেন। খেলেনও বেশ তারিয়ে তারিয়ে। পরদিন গিন্নী ফিরতে মুখে হাজার বাতির আলো জ্বেলে বললেন, “বুঝলে দইভাত দিয়েই দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম। বেশ একটা আইসক্রিম আইসক্রিম গন্ধ। আমি তো দুগ্রাস ভাত বেশি খেয়ে ফেললাম”। বটুক গিন্নীর ভ্রু কুঁচকে সেকেন্ড ব্র্যাকেট, “আইসক্রিমের গন্ধ?”।
“হ্যা গো, তুমি দই পাতলে এই গন্ধটা কেন পাই না? এবার থেকে দুধটা আর জ্বাল দিও না। জ্বাল দিলে ওই গন্ধটা নষ্ট হয়ে যায়”।
“বুঝলুম তুমি দুধটা জ্বাল দিতে ভুলে গেছ? কিন্তু তোমার পাতা দইতে আইস্ক্রিমের গন্ধ কত্থুকে এল?”
বটুকবাবু একটু ঘাবড়ে গেলেন। গিন্নীকে আশ্বস্ত করার জন্য বললেন, “তোমার কোন দোষ নেই গো। মন্টা ব্যাটা আগে একটা অন্য বাক্স থেকে দুধ দিত। দুদিন ধরে আমি নিজে প্যাকেট বেছে নিয়ে আসছি। একদম আমূল কোম্পানির ঘন খাঁটি দুধ”।
“রোস দিকিনি বাপু। আজকে যে দই পাতব সেই দুধের প্যাকেট এনেছ? একটু দেখতাম। কি এমন বিশেষ দুধ যাতে আইসক্রিমের গন্ধ?”।
“ওই তো ফ্রিজে রাখা আছে”।
বটুক গিন্নী ফ্রিজ খুলে প্যাকেট দেখে হাঁ হাঁ করে উঠল, “আ মল যা। এতো আমূলের দই এর প্যাকেট এনেছ। ওদের দইয়ে এমন ধারা গন্ধ থাকে। তার মানে দইয়ের প্যাকেট এনে দই দিয়ে দই পেতেছ। হা, ভগবান!”।
ঘরে পিন পতনের নিস্তব্ধতা।

Partha Ray

 

0 Comments | 0 Claps
সারা রাত“ রাত ”চাষ করে একটা সকাল ফলিয়েছি তোমার জন্য। তবুও পুরো ঝকঝকে সকাল করে উঠতে পারি নি। ঢেকে রেখেছে আকাশকে মেঘ। আচ্ছা, এমন কোনদিন হতে পারে, আকাশের পিছনে মেঘ থাকবে? যদি কোনদিন হয়, তবে আকাশ আর মেঘলা হবে না। তবে বৃষ্টি আর পড়বে না। তোমার ত আবার বৃষ্টিও চাই, মেঘলা দিন চাই, আবার নীল আকাশ ও চাই। তবে আকাশের ওপর মেঘ থাকলেই ভালো। ছন্নছাড়া আকাশ আর মেঘে মাখামাখি হয়েই গেল। মাঝখান থেকে সূর্য এসে থমকে দাঁড়াল। রাস্তায় মেঘেদের জ্যাম। উড়ো মেঘ সরছে বটে, কিন্তু অন্য আর একটা দখল নিচ্ছে আবার। ঠিকই করেছে আজ, ওরা খেলতে দেবে না সূর্যকে আকাশের বুকে। শুধু মেঘেদের রাজত্ব চলবে। তুমি ছুঁয়েছ কোনদিন মেঘ? মেঘের ভিতর দিয়ে হেঁটেছ? ক্ষুদ্র জলবিন্দু সারা শরীর ভিজিয়ে দেয় জলভরা মেঘের ভিতর দিয়ে হাঁটলে। কেমন নরম করে দেবে তোমার অস্তিত্ব। অনেকটা তোমার অস্তিত্বর ভিতর দিয়ে হেঁটে যাবার মত। তুমিও মেঘের মতন নরম। ভিজিয়ে দাও পরতে পরতে তোমার ভিতর দিয়ে হাঁটতে থাকলে। তোমার ভিতর দিয়ে হেঁটে চলার সব থেকে লম্বা আর প্রশস্ত পথটুকুর হদিস দিও তো। একবার ঘুরে আসব সেই না শেষ হওয়া পথটা ধরে......
শ্রী

শ্রী সেনগুপ্ত

 

0 Comments | 0 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 492441

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1578

Total Number of Poems : 25154

Total Number of Prose : 767

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS