New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose

জন্মের সময় নবজাতক যে কেঁদে ওঠে, তার কি একটাই কারণ, প্রথম শ্বাস নেওয়া! তবে তো কান্নাকে শুধুমাত্র এক যান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলেই,থেমে থাকতে হয়! মনের অনুভূতির কোনো সূক্ষ্মতা থাকে না, তাহলে।

এই যে তার এতোদিনের বাসস্থান-আজন্ম পরিচিত যেটা,সেটারই এক মূহুর্তে নাড়িছেঁড়া হয়ে যাওয়া-

জীবনটাও যে একে একে বাসস্থান হারানোর গল্প।

স্কুলের প্রথম দিনটায় কাঁদেনি,এমন কোনো বাচ্চা খুঁজে পাওয়া যাবে না। যতই চকলেটের লোভনীয় প্রলোভন দেখানো হোক না কেন,মা-বাবার বিশ্বস্ত হাতটার যে হস্তান্তর হয়ে যাচ্ছে, স্কুল নামক এক ভিন্ন বাসস্থানে, শত চেষ্টাতেও চাপা দেওয়া যায়না সেটা, ছোট্ট সেই শিশুটার কাছেও।

সেই শিশুই আবার কেঁদে ভাসিয়ে দেয় স্কুলের ফেয়ারওয়েলের দিনে। কারণ ততদিনে মায়ের কোল ভুলেছে সে। স্কুলটাই তখন তার বাসস্থান হয়ে গিয়েছে, একেবারে নিজস্ব।

জীবন ততদিনই কাঁদে, যতদিন না তার হারানো বাসস্থানটা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে, অন্য আরেকটা বাসস্থান দিয়ে। তবে, যেমন তেমন নয়, একটা সুন্দর সাজানো গোছানো। যেমনটা হারিয়ে এসেছে ঠিক তেমনই, মনের মতন।

এই মনের মতো যতোদিন না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত হারানোর তীব্র যন্ত্রণা......দমবন্ধ করা শ্বাসরুদ্ধকর।


Samir Pramanick

 

0 Comments | 0 Claps

হলদে পাতা

ঘরের উত্তর দিকের দেয়াল ঘেঁষে একটা দড়ি থেকে কয়েকটা ধুতি,গামছা ঝুলছে।ঘরে আসবাব বলতে একটা খাট, একটা কেঁচকি আর একটা জলচৌকি;কোণে একটা জলের কুঁজো আছে;কিছু গামছায় বাঁধা বইয়ের গাট্টি হা হ’য়ে টালির চালার দিকে তাকিয়ে আছে।খাটের মাথার দিকে এক হাত সমান আয়তাকার না বাঁধানো বইয়ের খোলা হলদে পাতা মুখ শুকিয়ে পড়ে আছে।এই আশ্রমে মঙ্গল মহারাজের দশ বছর কেটে গেল এগুলোকে নিয়েই।পূর্বাশ্রমের কথা কারোর কাছেই বলেন না।মায়া,মমতা,প্রেম,ভালোবাসা আবার জেগে ওঠে মাঝেমাঝে।এই শরীর অভ্যাসের দাসত্ব করলেও, ভেতরের বসবাসকারী সে আলেয়ার পেছনে ছুটে যায়।ভুবনের মুখ দেখলে মায়া বেড়ে যায়।

জানলা দিয়ে রোদ উঁকি দিচ্ছে।মঙ্গল মহারাজ একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন সেগুন গাছ থেকে ঝরে পড়া হলদে পাতাটার দিকে।
'মহারাজ,ভেতরে আসব।'
দরজার বাইরে থেকে কন্ঠস্বর শুনে মঙ্গল মহারাজ সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন এক বালক মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
'ভুবন, এসো।'মঙ্গল মহারাজ একথা বলে জানলা দিয়ে বাইরে চোখ রাখলেন।
'মহারাজ,প্রভূর ভোগারতির সময় হয়ে গেছে।' ভুবন ঘরে ঢুকে বলল।
'হ্যাঁ,যাচ্ছি।তুমি মন্দিরে যাও, আমি আসছি।'মহারাজ বললেন।
ভুবন মাথা নাড়িয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

অনাথ ভুবনকে আশ্রমে নিয়ে আসেন মঙ্গল মহারাজ।ভুবনের বাবা মা-র মৃত্যুর পর জ্ঞাতিরা মুখ ফিরিয়ে নেয়।ভুবনের বাবা মঙ্গল মহারাজের কাছে প্রায়ই আসত।
ভুবন ঘর ছেড়ে যাওয়ার কিছু সময় পর একটি কন্ঠ বারান্দা থেকে ডেকে উঠল,'মহারাজ।'
মঙ্গল মহারাজ বাইরে এসে বললেন ,'চন্দ্রা,অনেকদিন পর আশ্রমে এলে।কিন্তু এখন কথা বলতে পারব না।ভোগারতির সময় হয়ে গেছে।'
'জানি,মহারাজ।ভোগারতির পর আমি কথা বলব।আপনাকে এই কাগজের টুকরোটা দেওয়ার ছিল।'একথা বলে চন্দ্রা মহারাজের হাতে একটা কাগজের টুকরো দিয়ে তাঁর আগেই মন্দিরের দিকে দ্রুতপদে চলে গেল।

ভোগারতির শেষে আশ্রমের বারান্দায় মঙ্গল মহারাজ বসে আছেন।তাঁর কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা যাচ্ছে।ভুবন-কে তিনি পাঠিয়েছেন গোশালায়।গরুগুলোকে খাওয়ার দেওয়া হয়েছে কিনা দেখার জন্য।অন্যান্য আশ্রমবাসীরা তখনো মন্দিরে।তাঁরা ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করছে।চন্দ্রা প্রথম সিঁড়িতে বসে মহারাজের দিকে কৌতুহলপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
মহারাজ নিজেই নীরবতা ভাঙলেন। তিনি বললেন, 'পূর্বাশ্রমের কথা তোমাকে বলতে পারব না, চন্দ্রা।
চন্দ্রা বলল,'সেদিন আপনি মন্দিরে ছিলেন ;ভাবলাম আশ্রমের ঘরগুলোর ঝুল ঝেড়ে দিই। হাত পড়ল বইগুলোতে।বইয়ের ভেতর কাগজের টুকরোটা ছিল।'
'অন্যায় করেছ।'বলে মঙ্গল মহারাজ থেমে আবার বললেন,'আমাকে না জানিয়ে আমার জিনিসে হাত দেওয়াটা ঠিক হয় নি।'
চন্দ্রা নীচুস্বরে অভিমান মিশিয়ে বলল,'আমি ভেবেছিলাম আপনার সব জিনিসে আমার হাত দেওয়ার অধিকার আছে।কিন্তু-'
'কিন্তু-কী-থামলে কেন?'মহারাজ শান্ত কন্ঠে বললেন।
'আমিও যে আর পাঁচজনের মতো মন্দিরের ভক্ত সেটা ভুলে গিয়েছিলাম।'চন্দ্রা বলে চুপ করে গেল।
'এভাবে বলো না,চন্দ্রা।আমি তোমাকে স্নেহ করি।ভুবনের মা আমার ভালো বন্ধু ছিল।ওই কাগজের টুকরোটা ওঁর বিয়ের আগে আমাকে দিয়েছিল।ওঁর শেষ ছোঁয়া আছে ওতে।একবার ভুবনের বাবার সঙ্গে এসেছিল এ আশ্রমে।আমাকে এইভাবে দেখার পর আর আসেনি।'
চন্দ্রা মাথা নিচু করে বলল,'আমি কাগজের টুকরোটা পড়েছি।আপনি আমাকে শাস্তি দিন।'
মহারাজ হেসে বললেন,'তুমি কী শাস্তি চাও?'
চন্দ্রা বলল,'আমার মতো বৃহন্নলা-কে এত সম্মান দিয়েছেন।আপনার মন না ছুঁতে পারলেও চরণ ছুঁতে পারছি এটাই আমার কাছে সৌভাগ্যের।আমি ভুবনকে নিজের কাছে রেখে পড়াতে চাই।'
মহারাজ বললেন,'বেশ।'
মহারাজ ভেতরে চলে যেতেই সেগুন গাছের একটা হলদে পাতা উড়ে এসে চন্দ্রার পায়ের কাছে পড়ল।চন্দ্রা পাতাটা হাতে তুলে নিয়ে ওটার দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসলো।






Arpita Krishna Shankar

 

0 Comments | 0 Claps
সাত বছর একসাথে। অবশ্য হিসেব কষতে বসলে গুনে গুনে আর ঠিক কুড়ি দিন পার করতে পারলে তবেই, সাত বছর পূর্ণ হতো। সে যাই হোক,একসঙ্গে থাকার এই সময়কালটাও বড়ো কম নয়!

অবশ্য, এই যে হিসেবকষা কিংবা এই মূল্যায়ন, সেটা সবসময়েই অন্যের হাতে। আমি তার কাছে কেমন, সেই অনুযায়ী-

আর,নিজের কথা নিজের মুখে বলতে গেলে সেটা আবার,কৈফিয়ৎ এর মতো শোনায়-

আর সেখানে চলে আসে,বিশ্বাস-অবিশ্বাস, গ্রহণ-বর্জন,যেটা আবারও সেই,অন্যের হাতে-

শুধু, অনুভবের মাপ, মাপা যায় না কোনো নিক্তিতে।
অনুরাগ কিংবা বিরাগ সত্যিই একেবারে হার্দিক বিষয়।

খুব স্বাভাবিকভাবেই,স্মৃতি সরনীতে আজ শুধু, ভালোলাগার সুখস্পর্শ ভিড় করে আছে এমনটা নয়,
খারাপলাগার পীড়াগুলোও বিঁধে আছে সমানে-

অবশ্যই ভালোলাগার পাল্লা ভারী বলেই, ছেড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে। আর মূল্যায়নের এই হিসেবে এতটুকুও ভুল হওয়ার যো নেই।

সে যাই হোক,আজকের এই অফিসটাকে দেখলে ঠিক আন্দাজ করা যাবে না আগের সেই লঝঝড়ে, ঝুলপড়া অবস্থাটা।

চটা ওঠা মেঝে, আজ ঝকঝকে টাইলসে সেজেছে। হেলে পড়া ঝুলন্ত টিউবলাইটের জায়গায় আলো ঝলমলে শেড সিলিং,পেট মোটা জাবদা খাতার জায়গায় স্মার্ট কম্পিউটার, পায়াভাঙা টেবিলের জায়গায় মডার্ন কিউবিকলে এখন বেশ একটা কর্পোরেট লুক এসে গেছে।

শুধু, গেটের মুখের পাঁচখানা সিঁড়ি অবিকল একইরকম রয়ে গেছে। সেই সিঁড়ি, যে সিঁড়ি বেয়ে এই অফিসে একদিন জয়েন করতে এসেছিলাম,নতুন বড়োবাবু হয়ে। আজ,সেই সিঁড়ি বেয়েই নেমে যাবো, প্রাক্তনী হয়ে-

সিঁড়ি শুধু ভার বয়ে চলেছে। যাওয়া-আসায়, নতুন-পুরনোয়,অবতরন কিংবা উত্তরণে সিঁড়িদের কোনো পরিবর্তন হতে নেই যে-

Samir Pramanick

 

0 Comments | 0 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 958679

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1733

Total Number of Poems : 31287

Total Number of Prose : 1153

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS