New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's Featured Prose

অভ্যাশবশত চশমাটা আলতো করে ঠেলে নাকের সঙ্গে যথাযথ খাপ খাওয়াতেই চোখ গেল ধ্রুবো'র মুখে | অন্তরে সৃষ্টি হওয়া ক্ষনিকের অপরাধবোধ ওর মুখে জোড়ালো ছাপ ফেলেছে | সাময়িক অস্বস্তিতে যেন আশেপাশের কলকারখানার সাইরেন , গাড়ির হর্ন ,সাইকেলের বেলের সমস্ত শব্দগুলি অন্তরের শব্দগুলিকে প্রতিহত করার খেলায় মত্ত | সশব্দে জোড়ে নিশ্বাস ছেড়ে জড়তাকে কাটাতেই যেন আবার সেই অলিন্দের স্পন্দনের শব্দ ও কথা শুনতে পাচ্ছিলাম , সঙ্গে সঙ্গে ধ্রুবো গলা খাখানি দিয়ে বলে উঠল - তুমি এখন কেমন আছো? | মনে মনে আপনা উত্তরটি তৈরী হতেই বাছতে আরম্ভ করলাম কোনটা বলবো , কারন উত্তর বোধহয় শুধু 'উত্তর'য়েই সীমাবদ্ধ নয় ,বিন্দু বিন্দু ক্ষোভের জলকনায় ভর্তি যা জড়ো করে বললে ধ্রুবোর আঁখিতে বৃষ্টিবারিবিন্দুর সমাগম ঘটাতে পারে !...তাই মিনিট দু'য়েকের সময় নিয়ে বললাম - বেশ আছি ! একটা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের এনজিও চালাই ,ওদেরকে নিয়ে ভালোই আছি...বলতেই ধ্রুবো যেন শুধু মুখে নয় চোখের জিগ্যেসার আকুলতা সঙ্গে বলে উঠলো - মিতা কাউকে বিয়ে.....................
মেঘমিতা নামের দীর্ঘউচ্চারনে র দরুন সুবিধা ও একটু আহ্লাদ প্রকাশ করবার জন্য মিতা - নামেই ডাকতো |

একটু 'হাসি'র ছিঁটোয় আমার ঠোঁটের কোনা নিজে থেকে বাঁক নিলো , আমার এই হাসিটি যেন শতজন্মের ভারতবর্ষের কোটি কোটি নারীর প্রতি অন্যায়ের প্রতিশোধিয় জয়ের হাসি | বললাম - না ,তবে সুজন বলে একজন উকিলের সঙ্গে বন্ধু সম্বন্ধে আবিষ্ট , শুভ পরিনয়ের অপেক্ষায়....................|
অপ্রত্যাশিত উত্তরের তরল বেদনা যেন স্পষ্ট হয়ে উঠলো ধ্রুবো'র দৃষ্টিতে | ধ্রুবো ঘন্টাখানিকের কথোপকথনের ইতি টানতে উদ্ধত হয়ে উঠলো - ও, বেশ , ভালো থেকো, উকিলবাবুর সঙ্গে সুখী...................., সমস্ত কথার সমাপ্তিক্ষনের আভাস পেয়ে নিজের হাতঘড়িতে একবার চোখগুলিয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বললাম - আমি তাহলে...................
ধ্রুবো নিরুত্তরে কেবল সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে বিদায়বেলার সূচনা করলো | যে কটকটে পড়ন্ত রোদ আমাদের এতক্ষন স্নায়ুকে অতিরিক্ত বল দিচ্ছিল , সেই রোদ এখন নিস্তেজ , দিগন্তরেখা ছুঁই ছুঁই | দু'জন দু'জনের বিপরীত মেরু নিয়ে পথ হাটলাম , কিছু এগোতেই আমি পিছন ফিরে তাঁকাতেই যেন শেষবার যখন দেখা হয়েছিল সেই পিছন থেকে একইরকমভাবে পকেটে হাত দিয়ে মেরুদন্ড কিছুটা কুঁজো করে হেঁটে যাওয়া স্মৃতি চোখের সামনে দ্বিতীয়বার জ্বলজ্বল করে উঠলো | কিন্তু তফাৎ একটাই সে'বার ধ্রুবোও পশ্চাতে ফিরে তাঁকিয়েছিল, আর এ-বার শুধু আমি | আমার মন যেন সশব্দে বলে উঠলো -- ভালো থেকো..........................

antorin

 

0 Comments | 1 Claps


ক্ষীরপুর নাম প্রথম শুনলাম আমার এক বন্ধু স্থানীয় ভাইয়ের কাছে । নামটার মধ্যেই এক মনকাড়া মিষ্টি গন্ধের সুবাস । এক সকালে রওনা দিলাম সেই ম্যাপের বাইরে গ্রামে । এসে দেখি উল্টো । সাদা ক্ষীর নেই তবে চারিদিকে সবুজের সমারোহ আর সাথে হরেক পাখপাখালির কলরব । পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে এমন জিনিস বর্তমানে বিরল ।
উঠলাম অশতিপর গোকুল সামন্তের বাড়ী । প্রথমে ভেবেছিলাম বৃদ্ধ নরম মনের কিন্তু যখন চশমার ফাঁক দিয়ে আমাকে আচ্ছা করে জরিপ করতে শুরু করলেন তখন ভ্রমটা ভাঙল । শেষে আমার সকল প্রশ্নের উত্তরে আপাত সন্তুষ্ট হয়ে বিরস মুখে থাকার জায়গা দেখিয়ে বৃদ্ধ হাঁটা লাগালেন । আমি লেখক মানুষ , এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন বহুবার হয়েছি ।

ভোরবেলায় ওঠা আমার বহুকালের অভ্যাস । ফুরফুরে হাওয়ায় হাঁটতে বেরবো ঠিক তখনই গোকুল বুড়ো এক কাপ চা নিয়ে হাজির । ঠোঁটের কোণায় হাল্কা হাসির রেশ । বললেন , “ কিছু মনে করবেন না কালকের জন্য । আজকাল মানুষ আর চিনতে পারি না ।” বুঝলাম , মানুষের মনে অনেক কথা জমাট পাথরের মত চাপা থাকে । ফিরতে বেশ বেলা হল । গতকাল বাড়ীটাকে ভাল করে দেখা হয় নি ভাল করে । সকালের আলোতে দেখলাম আমি যে ঘড়ে আছি তার ঠিক বাঁ পাশে কাঁচা গলি চলে গেছে । একটু এগোতেই কানে এল পাখীর চিচিরমিচির শব্দ । যা দেখলাম তাতে হতভম্ব । বুড়োর কাঁধে , পিঠে নানা পাখি বসে আছে । একটাও সুস্থ না । কারো পায়ে কাপড়ের পট্টি , কারো ডানা ভাঙা । গোকুল সামন্ত পরম স্নেহে হাতে ধরে ছাতুর গুলি খাওয়াচ্ছে । ওদের সাথে বাচ্চাদের মত কথা বলছে । আমি কাকে দেখছি ! কোথায় সেই খিটখিটে মানুষটা ! এগিয়ে গেলাম হাসিমুখে । ফল হল উল্টো । যাচ্ছেতাই ভাবে চীৎকার করে আমাকে প্রায় মারতে আসে আর কী! কোনমতে বেরিয়ে এসে ভাবলাম আর নয় ! কাল থেকে অনেক অপমান সয়েছি ।

পরদিন সকাল হতেই ষ্টেশনের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম । ছোট্ট করে “আসি” বলতেই বুড়োকে দেখলাম অবাক চোখে আমার দিকে চেয়ে আছে । রাস্তার পাশে চায়ের দোকান । গলা ভেজাবো বলে বসলাম । পাশের এক ছোকরা গোছের ছেলে আমার দিকে চেয়ে প্রশ্ন করল , “ দাদাকে নতুন দেখছি ।” মাথা নেড়ে সম্মতি প্রকাশ করলাম । ছেলেটি আবার বলল , “ কোথায় গেছিলেন ?” উত্তরে গোকুল সামন্তের কথা বলতেই ছেলেটি অবাক গলায় বলল , “ ও আপনিও পাখী বুড়োর মত ?” কথাটার মানে বুঝতে না পারলাম না বুঝে ছেলেটি আবার বলল , “ আপনার হাতে সময় আছে , যাবেন আমার সাথে ?”
নীরবেই এগিয়ে গেলাম বেশ খানিকটা । গ্রামটার উত্তর দিকে গাছে ঘেরা বিশাল জলাশয় । মাঝে একটা সবুজ অংশ । টলটল করছে জল । ছেলেটি এবার বলল , “ কিছু বছর আগে এমনটা ছিল না । দীঘিটা প্রায় বেদখল হয়ে গেছিল , ফ্ল্যাট হবে বলে । এবার শীতকালে এসে দেখবেন কত পাখী এসেছে ।”
আমি জিজ্ঞাসা করলাম , “ কেন আগে আসত না ?” “ আসত , তবে পিকনিক করতে এসে কত লোক পাখী মারতো । আমাদের গোকুল বুড়োর সাথে ওইসব লোকদের কম ঝামেলা হয় নি ” ছেলেটি হাল্কা স্বরে উত্তর দিল ।
খানিক দম নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলে , “ বুড়োর মাথাটা গেছে । আর যাবে নাই বা কেন বলুন ? প্রমোটারের গুণ্ডা একদিন গোকুল বুড়োর মাথায় মারল রড দিয়ে । তবে গোকুল সামন্ত ছাড়বার পাত্র নয় , নিজের জমি জায়গা বিক্রি করে মামলা লড়ে দিঘীর জমি বাঁচায় ।”
আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলাম । ছেলেটি হেঁসে বলে , “ দাদা , বুড়ো দিব্যি আছে । মাঝে মধ্যে খেপে যায় ঠিকই কিন্তু মাথাটা গেলেও প্রকৃতির কাছে আমাদের থেকে অনেক সুস্থ । ওনার মত পাগল আছে বলেই প্রকৃতি সাথে আমরাও বেঁচে আছি ।”
গোকুল সামন্তের কাছে আমি আর যাই নি । ট্রেনে যেতে যেতে দেখলাম একদল পাখী ডানা মেলে উড়ছে । হয়তো বুড়োর সন্ধানে বেরিয়েছে ।।




পবিত্র চক্রবর্তী

 

2 Comments | 1 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 187039

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1332

Total Number of Poems : 20298

Total Number of Prose : 378

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS