New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose

পুক্লু
--*--

দেবপ্রসাদ বসু
২৭/০১/২০২১

পুক্লু --- নাম রেখেছিলেন ঠাকুমা। সেই ঠাকুমা আর নেই কিন্তু পুক্লু সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে তার পাকামি। ক্লাস সিক্সে পড়ে সে। কিন্তু পাকা পাকা কথায় ওস্তাদ। বুদ্ধির মারপ্যাঁচে বাড়ির সবাইকে ব্যতিব্যস্ত ক'রে রাখে সর্বক্ষণ। হঠাৎ হ'লো কী! একদিন সকালে সে মা'কে বলল, মা! আমি এখন থেকে কিছুদিন আর ভাত খাবো না। মা তো শুনে তাজ্জব। বললেন, কেন-রে খোকা! ভাত খাবি না কেন? ভাত না খেলে গায়ে কী আর বল আসে। আমাদের এখানকার জল হাওয়াতে মানুষ তেলে-জলে, দুধে-ভাতে, মাছে-ভাতে সুস্থ থাকে, স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, আরাম পায়। পুক্লু নাছোড়। বলে, না মা, আমি কিছুদিন ভাত খাবো না, ভাতের বদলে রুটি খাবো দুইবেলা। নাও ঠেলা! এ যে দেখি ভারী সমস্যায় পড়া গেল। ছেলে যদি ভাত না খায় তাহলে মা হয়ে কিভাবে দু'বেলা দুমুঠো ভাত তোলা যায় মুখে! খুব ক'রে বোঝাতে থাকলেন ছেলেকে, ভাত খেতে হয় বাবা! তুমি ভাত না খেলে মা হয়ে আমিও বা ভাত খাই কী ক'রে বলো? ভাত হচ্ছে লক্ষী। অন্ন বলে তাকে মানুষ। অন্ন যোগান যিনি তিনিই হচ্ছেন অন্নপূর্ণা। মা অন্নপূর্ণা। অন্নপূর্ণা মা'য়ের পুজো করে মানুষ তাঁকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য যাতে অন্ন উৎপন্নকারি ধানের ফলন খরা বন্যা পোকা মাকড়ের উপদ্রবে নষ্ট না হয়ে যায়। আমাদের জ্ঞান ভান্ডার উপনিষদে বলা হয়েছে ----- "অন্নময় মন, জলময় প্রাণ।" অর্থাৎ কিনা অন্ন গ্রহণ বিনা স্মৃতি শক্তি হ্রাস পায় অর্থাৎ কমে, এবং জল পান বিনা প্রাণ ধারণ প্রায় অসম্ভব। মা'য়ের মুখ থেকে এত কিছু জ্ঞান উপদেশ শোনার পর পুক্লু বলল, আচ্ছা বলো তো মা! আমরা কী শুধু উপনিষদের কথাই শুনব, আর কারও কথা শুনব না? আর উপনিষদই বা কে, তিনি থাকেন কোথায়, বলো তো একবারটি তাঁর সাথে দেখা ক'রে দু'টো কথা বলে আসি। মা বললেন, আগে বড় হও তারপর তাঁর দেখা পাবে। খুব জ্ঞান গম্মি ওয়ালা মানুষ কিনা তিনি! তাঁর কথা ছোটরা ঠিকঠাক বুঝতে পারে না। সাথে সাথে পুক্লু বলল, না-ই যদি বুঝতে পারি তাহলে তাঁর কথা বললে কেন আমাকে মা? অস্বস্তিতে প'ড়ে গেলেন মা। কথা ঘুরিয়ে বললেন, ঠিক আছে, ঠিক আছে, এক কাজ করো, একবেলা অন্তত ভাত খাও, আর একবেলা না হয় রুটি খাও। পুক্লু বলল, যাদের কথা আমি বুঝি তাদের কথাই মেনে চলা ভালো। মা কৌতূহলে জানতে চাইলেন, কে সে যার কথা শুনে এবং বুঝে চলতে চাও? পুক্লু বলল, কেন! তুমি জানো না? সেদিনই তো আমাদের ডাক্তারকাকু আমারই সামনে তোমাকে বললেন, "একই জিনিস রোজ রোজ ছেলেকে খাওয়াবেন না। কিছুদিন অন্তর অন্তর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাওয়াবেন"। মা তো হেসেই একসার। ছেলেকে জড়িয়ে বললেন এবং বোঝাতে চেষ্টা করলেন যে, সে কথা তিনি কেন বলেছেন এবং কোন কোন খাদ্যের ব্যাপারে বলেছেন। ছেলেকে শুধু বললেন, একই কথার নানান রকম অর্থ হয় বাবা নানান রকম বিষয়ে, বুঝেছ?


* * * * *

দেবপ্রসাদ বসু (উপাসক)

 

0 Comments | 0 Claps
লুলা ছুগ্নি
------*------

দেবপ্রসাদ বসু
২৬/০১/২০২১

আজ ছাব্বিশে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস, সারা দেশ ছুটির মেজাজে। তার ওপরে মাঘের শীত। কম্বলের মধ্যে শরীর ঢেকে মৌজ করার পরিবেশ। তারও ওপরে আয়েশি শীতকাতুরে ছুটিকাতুরে অলস যদি কেউ হয় তাহলে আর দেখতে হবে না। এমনি দিনে সকাল আটটায় ওঠে অধীর। তৈরি হয়ে নয়টায় বেরোয় আফিসের উদ্দেশ্যে। লেখাপড়া সমাধা ক'রে নতুন চাকরি জীবন। আজ উঠল দশটায়। উঠেই মাকে বলল, মা! আজ এতবড় একটা স্মরণীয় ছুটির দিনে সকালের টিফিন কী হলো? মা একটু রসিক। ঠাট্টা ক'রে ছেলেকে বললেন, লুলা ছুগ্নি। অধীর অবাক। বলে, কী যে আজকাল তুমি বলো না মা! কথার মধ্যে কথা হাতড়াতে হয়। মা বললেন, খুব তো কথায় কথায় আমার কথার ভুল ধরিস। নিজেকে জাহির করিস। তা এবার বুদ্ধি ক'রে বল তো দেখি, কী খাবারের ইঙ্গিত দিয়েছি? তবে একটু সাহায্য করছি, কথাটা হ'লো গিয়ে দু'টি শব্দের মিশ্রণ এবং দুটির প্রথম অক্ষর জুড়ে দিয়ে বানিয়েছি। ধর না মনের কম্পিউটারে কন্সাইজ ক'রে নিয়েছি অর্থাৎ কিনা মিনিমাইজ ক'রে নিয়েছি। হেদিয়ে গেল অধীর মায়ের হেঁয়ালির উত্তর খুঁজতে। একপ্রকার হেরে ভুত হয়ে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিমায় কথায় আবদার মিশিয়ে বলল, বলো না মা, কী বানিয়েছ আজকের এই বিশেষ দিনের টিফিনে। অধীর একটু মন চঞ্চল ছেলেমানুষ। যা কিছু ভাববে অমনি তক্ষুনি তার চাই, করা বা বলা যা কিছু হোক না কেন। কথায় বলে না! ধর তক্তা মার পেরেক? ঠিক তেমনি ফিঙে পাখির মতো চঞ্চল তার মনের ধাত। ছেলেকে আর মানসিক চাপে রাখতে চান না মা। এবার হাসতে হাসতে ছেলেকে বললেন, সর্ব বিষয়ে এত কথা বলিস আর এই সহজ কথাটা বুঝতে পারলি না বা আবিষ্কার করতে পারলি না? তুই-ই তো কথায় কথায় শর্টকাটে কথাকে ছোট ক'রে জিজ্ঞাসা করিস, বলোতো মা, পুরো কথাটা কী হবে। এখন পারছিস না কেন বলতে। আসলে তোর কথাতেই তোকে ঘায়েল করেছি আজ। এবার হেসে বললেন, শোন, লুলা-র লু হ'লো গিয়ে লুচি। তুই যেটা সব চাইতে ভালবাসিস। আর লা মানে হ'লো গিয়ে লাভলি ছোলার ছুগ্নি। একটু টুইস্ট ক'রে দিয়েছি কথায়। নইলে তুই বুঝে ফেলতিস। সর্বক্ষণ তো এই সবই করিস ----- কথার মারপ্যাঁচ। কাবলি ছোলাকে বানিয়েছি লাভলি ছোলা। অধীর হেসেই কাহিল। ধাতস্থ হয়ে বলল, সে নয় হলো। কিন্তু ছুগ্নিটা কী বস্তু মা? মা বললেন, সেটুকুও বুঝলি না? বুটের যেমন ঘুগনি হয় ঠিক তেমনি ছোলার ছুগ্নি। বাবা নেই। মা ও ছেলে। সংসারে দুটি প্রাণীর খুবই ভাব, অন্তরঙ্গতা। অধীর মাকে জড়িয়ে ধরে মুখে চুমু খেয়ে বলল, তুমি না আমার সোনা মা! কে বলে আমার মা বুদ্ধিমতী নয়? মায়ের চোখে আনন্দ অশ্রু। স্বামীকে হারিয়ে ছেলের মধ্যেই খোঁজেন তাঁর চিত্তকে। খুঁজেও পান। তিনিও রসিক মানুষ ছিলেন।


* * * * *

দেবপ্রসাদ বসু (উপাসক)

 

0 Comments | 0 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 860774

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1717

Total Number of Poems : 30333

Total Number of Prose : 1102

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS