New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose

বিজয়ার বাতাসে বিদায়ী সুর। তিল তিল করে গড়ে তোলা সম্পর্কের, মুহূর্তেই ভেঙে যাওয়ার বেদনা। নিজের চোখে,চিন্ময়ীকে আবারও মৃন্ময়ীতে গলে বিলীন হতে যেতে দেখতে পাওয়া সহ্য করার, নিদারুণ যন্ত্রণা। ভালো হওয়া মনটা আবারও খারাপ হয়ে যাওয়ার সঙ্গত কারণ থাকাটাই স্বাভাবিক। খুব স্বাভাবিক তাই আজ, আকাশ ভেঙে অঝোর ধারায়, বৃষ্টি নামার-

বিজয়া সম্মিলনী; মানুষে মানুষে দেখা হওয়ার, সম্পর্কে সম্পর্কে সম্পর্কিত হওয়ার, এই রীতি কতোদিনের, কে জানে!

যাবো যাবো করেও দেখা করতে যাওয়া হয়নি। আজ গেছিলাম। দিনের হিসেব পার করে, মাস। আর শুধু মাস নয়, টানা বেশ কয়েক বছর পর।

দেবীর চলে যাওয়ার পর পরেই, গেলাম তাদের বাড়ি,হুট করেই। তাদের মানে, নিছকই এক সামাজিক সম্পর্ক। তবে,একসময়ের বেশ ঘন ঘন যাতায়াতে সমাজের বৃহত্তর গন্ডী থেকে ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুত্বে, উত্তরণের সে সম্পর্ক।

কিন্তু, ওই যে বললাম, বেশ লম্বা এক সময়ের বিরতি পার হয়ে গেছে,ইতিমধ্যে। পরিচিত সম্পর্কটা ফিকে হতে হতে, প্রায় এখন তা, অপরিচিতের পর্যায়ে।

আমাদের দেখে ওরা সবাই, বড়ো ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল, ঠিক আগের মতো।

আতিথেয়তা বড়ো যত্নের সম্পদ। সবসময় অনেককিছুর আড়ম্বর আয়োজনকে ছাপিয়ে যায়, সামান্য কিছু। পরিমাণের পরিমাপে, প্রাচুর্যের বিশালতায়, মাপা যায় না, তাকে-

ওদের এই ব্যস্ততা দিয়েই, ওদের এই সামান্য সময়ের গল্পগাছার অন্তরঙ্গতা দিয়েই কেমন যেন বলে দিল,
" সম্পর্কে চিড় ধরেনি,মোটেও। যেমনটা ছিল, অবিকল তেমনটাই আছে, আগের মতো। মাঝখানে অনেকদিন দেখা হয়নি, তো কি হয়েছে! এখন তো হলো। সেটাই বা কম কি! নিজের ঘরের সব আসবাবপত্র কি আমরা রোজ রোজ ছুঁয়ে দেখি নাকি, আমার বলে!"

ফিরে এলাম। কিন্তু, ভালোলাগার স্পর্শটা ছুঁয়ে আছে, এখনও। হাঁ, এখনও।

সম্পর্ক বড়ো অদ্ভুত না। কতো সামান্য কারণে ভেঙে যায়। আবার,কতো সহজেই তা,জুড়েও যায়। শুধু ইচ্ছেটার, ইচ্ছে হওয়া চাই, কেবল।

আজ,বিজয়া যেন বিজয়ী হয়ে গেল, বিজয়া সম্মিলনে-

Samir Pramanick

 

0 Comments | 0 Claps
পটলের জীবন কাহিনী অবলম্বনে---
ধারাবাহিক উপন্যাস(একটি জীবনের গল্পঃ)
পর্ব (০১)

১৯/১০/২০২১
মনোরঞ্জন আচার্য্য
_________________________________________

আমাদের পাড়ার পটল সেই ছোট্টবেলা থেকেই কয়েক জন বন্ধু সঙ্গে একসাথে লেখাপড়া শুরু করেছিল,
কিন্তু এক‌ই সময় একটি তিথি নক্ষত্র ধরে জন্মগ্রহণ করলেও যেমন সকলের ভাগ্য একরকম হয়্না,
তেমনি একসাথে লেখাপড়া শুরু করলেও পটলের কপাল আর পাঁচটা বন্ধুদের মত ছিল না,
পড়াশোনায় মনোযোগ থাকা সত্ত্বেও টাকা পয়সার অভাবে বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি তার লেখাপড়া।
পটলের বাবা দিন মজুরের কাজ করে সংসার প্রতিপালন করতেন, অনেক কষ্ট সিস্টের মধ্যে দিয়ে ক্লাস ফোর পর্যন্ত পটলের বাবা পড়াতে পেরেছিলেন তাকে,
তখন পটলের মাত্র দশ বছর বয়স, পটল তার ব‌ইখাতা যত্ন করে তুলে রাখতে বাধ্য হয়েছিল একটি বিশেষ ঘটনায়, সেই ঘটনার কথায় পরে আসবো সে এক বিরাট কাহিনী।
পটলের বন্ধুরা সকলেই প্রায় উচ্চ শিক্ষিত,কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ব্যাংকের বড়বাবু, কেউবা রাইটার্সে চাকরি করেন, সকলের ভরা সংসার।
সবাই যখন টাকার পেছনে ছুটছে,পটল তখন সাধারণ একজন সবজি ব্যবসায়ী হয়ে ও দিন দিন যেন সাহিত্য অনুরাগী হয়ে উঠছিল, পটল যখন তখন সময় পেলেই মুখে মুখে ছড়া কাটতো,
সবার চোখের আড়ালে পটল ছেলে মেয়েদের বইপত্র নিয়ে চুপি চুপি পড়তো, বিকেল বেলায় পাড়ার মোড়ে নানান রকম বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় কবিতা পড়তো কোন কোন দিন গল্পও শোনাতো। সেদিন আমরা সবাই মিলে চেপে ধরলাম একটি গল্প বলার জন্য, আমাদের সকলের অনুরোধে,ও একটি গল্প শোনালো‌ আমাদের।
গল্পটি এই রকম।
একটি গ্রামে একজনের বাড়িতে একদিন একজন সাধু বাবা এসে হাজির হলেন, নানা কথার ছলে তিনি একজন কে বললেন ঈশ্বর যখন জীবের সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তার খাবারও তিনি ঠিক করে রেখেছেন, কিন্তু যে বাড়ির কর্তা কে তিনি বললেন তিনি মানতে রাজি হলেন না,
তিনি বললেন আমি যদি খাব না মনে করি, ভগবান কি করে আমায় খাইয়ে দেয় আমি দেখব, এই বলে তিনি খাওয়া বন্ধ করলেন, স্ত্রী পুত্র-কন্যা সবাই অনেক জোরাজুরি করলো কারো কথায় তিনি শুনলেন না।
তারপর একসময় বিরক্ত হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন, সারাদিন এদিক-ওদিক ঘোরার পর যখন সন্ধ্যে হয়ে এলো, তখন তিনি একটি গাছের উপর উঠে বসলেন রাত্রি যাপন করার জন্য।
এদিকে সেই গ্রামের এক বিত্তবান ভদ্রলোক মারা গিয়েছিলেন, সেদিন ছিল তাদের বাৎসরিক কাজ,
তারা বড় বড় হাঁড়িতে নানান সুমিষ্ট খাবার রান্না করে গ্রামের বাইরে একটি জায়গায় যত্ন করে সন্ধ্যেবেলা রেখে এলো, যাতে প্রেতাত্মা এসে সবকিছু খেতে পারে।
রাত্রিবেলা কয়েকটি চোর চুরি করতে বেরিয়েছিল তারা দেখল খুব সুন্দর সুন্দর রান্না বসানো আছে হাঁড়িতে,
ওরা ভাবলো আমরা তো পেটের জন্য ‌চুরি করছি, চলো আজ আমরা এই খাবার গুলো সবাই মিলে খাই ,এতো ভালো খাবার আমাদের কপালে কোনদিন জুটবে না।
কিন্তু ওদের সর্দার বাধা দিয়ে বললো দাঁড়াও এইভাবে আমরা খাবোনা, আমরা চোর আমাদেরকে মেরে ফেলার জন্য হয়তো কেউ এখানে খাবার রাখতে পারে।
তোমরা আগে খোঁজ করে দেখো কেউ কোথাও লুকিয়ে থেকে আমাদের অনুসরণ করছে কিনা।
সর্দারের কথায় সবাই এদিক ওদিক টর্চের আলো ফেলে দেখতে লাগলো। একজন হঠাৎ দেখতে পেলো গাছের উপরে কেউ একজন চুপটি করে বসে দেখছে।
ওরা সেই লোকটিকে নিচে নামিয়ে বললো আমাদের মেরে ফেলার জন্য এই ব্যবস্থা করেছো? সে যত না বলে, চোরের সর্দার তত ওকে চড় থাপ্পড় মারতে লাগলো।
শেষ পর্যন্ত সর্দার বললো ঠিক আছে তুমি যদি সত্যি কথা বলছো, তবে তুমি আগে খাও তোমার যদি কিছু না হয় তবে আমরা সবাই মিলে এই খাবার গুলো খাবো।

লোকটি শেষ পর্যন্ত চোরের হাতে মার খেয়ে, মড়ার‌ পিন্ডি গিলে শিক্ষা পোলো,যে অবিশ্বাস মানুষকে কত নিচে নামিয়ে দিতে পারে।
কিছু মানুষ এমন হয়,
সব বন্ধুরা হাততালি দিয়ে উঠলো।

Kolom vanga kobi

 

0 Comments | 0 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 1045116

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1755

Total Number of Poems : 32104

Total Number of Prose : 1228

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS