New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose


ঝাড়খণ্ডের বিসিসিএল-এ বদলি হয় অনন্ত ভদ্র। অফিস থেকেই দুকামরার কোয়ার্টার দিয়েছে। দশ কিলোমিটারের মধ্যেই তোপচাচি লেক। নাতিউচ্চ পাহাড়ে ঘেরা সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশ। গত সপ্তাহে কাজে যোগ দিয়ে অহনা ও ছেলেমেয়ের থাকার সুবন্দোবস্ত করে কলকাতা থেকে ওদের নিয়ে হরিণাবাগানে ফিরছে অনন্ত।


ধানবাদ স্টেশনে শান্তিপুঞ্জ এক্সপ্রেস যখন থামল হাত ঘড়িতে সন্ধ্যে পৌনে ছটা। ড্রাইভার সুরেশকে বলা আছে অফিসের গাড়ি নিয়ে আসবে। ট্রেন ঢোকার আগেই ফোনে জানাল গাড়ির একটা পার্টস পাল্টাতে একটু সময় লাগবে। জুলাইয়ের আজ পাঁচ, বর্ষাকাল। একপশলা বৃষ্টি হয়ে স্টেশন চত্বর ভিজে রয়েছে। চারপাশের গাছপালাও সদ্যস্নাতা যুবতীর মতই সতেজ, সবুজ। বেশ লাগছে অহনার। ছেলে ঋভু, মেয়ে ঋতু নিজেদের মধ্যে খুনসুটিতে ব্যস্ত। স্টেশনেই একটু চা ও শুকনো খাবার খেয়ে অনন্ত ফোন করে সুরেশকে। সুরেশ জানায় গাড়ি সারাতে আরও সময় লাগবে। অগত্যা অনন্ত ভাড়া গাড়ির খোঁজ করতে স্টেশনের বাইরে আসে। কিন্তু, আধঘণ্টার মধ্যেও কোন গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারে না সে। এদিকে চারদিকে অন্ধকার নামার সাথে সাথে মুশলধারে বৃষ্টিও শুরু হয়। একে একে গাড়িগুলো প্যাসেঞ্জার নিয়ে রওনা হয়ে গেছে। ফাঁকা পার্কিং জোনে দাঁড়িয়ে দু'মিনিট ভাবে সে। তারপর সবাইকে নিয়ে দ্রুত পায়ে এগিয়ে যায়, রাস্তার দিকে। গাড়ি না পেলে অন্ততঃ একটা হোটেলের ব্যবস্থা করতেই হবে।

সমস্যা হল এখান থেকে কোন বাস যায়না হরিণাবাগানে। আর, বর্ষায় সন্ধ্যের পর গাড়িও অনিশ্চিত। তাই ঠিক করে, একটু হেঁটে বাজার এলাকায় কোন হোটেলে উঠবে আপাততঃ। তারপর সুরেশ গাড়ি নিয়ে না এলে সকালে কিছু একটা ব্যবস্থা করবে। ব্যাগপত্র ও বাচ্চাদের নিয়ে দ্রুত পায়ে হাঁটতে থাকে ওরা। বৃষ্টিতে পুরো ভিজে গেছে সকলে। আচমকাই লোডশেডিং। চারপাশে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার।
এখানে এ এক বিড়ম্বনা। বুকপকেট থেকে মোবাইল বার করে ফ্ল্যাশটা জ্বালানো যায় বটে, কিন্তু বৃষ্টিতে মোবাইল ভিজবে ভেবে আর বার করে না অনন্ত। হঠাৎই কানের কাছে কে যেন বলল,

—"কাঁহা যানা সাব?" বৃষ্টির ঝাপটার সাথে একটা রক্তের আঁশটে গন্ধ নাকে এসে লাগে অনন্তর। থমকে দাঁড়ায় সে। অন্ধকারে চোখটা কিছুটা সয়েছে ততক্ষণে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে একজন দোহারা চেহারার বেঁটেখাটো লোক।

—"হরিণাবাগান। যায়ে গা?"

—"যায়েগা। জরুর যায়েগা।"

—"ফেয়ার কিতনা লোগে?"

—"আপ হামারা মেহমান আছেন। জো মর্জি দে দেনা।"

—"মেহমান মৎলব? তুম ক্যায়সে জানতে হো?"

—"আপ পহলে তো গাড়িতে বসুন। উসকে বাদ সব বলছি।"
হাতে যেন চাঁদ পায় অনন্ত। লোকটাকে অনুসরণ করে পৌঁছোয় একটা স্করপিওর সামনে। এবার অহনা হাতে একটু চাপ দেয় স্বামীর। অনন্তও ভাবে, কোন ট্র্যাপ নয়তো? মাঝপথে গিয়ে ছিনতাই করে যদি!

—"কোই ডর নেহি সাব। মেরে সাব শতাব্দী মে কলকাত্তা গয়ে। উন্হে ছোড়নে আয়ে থে। চা পিনে বৈঠে তো বারিষ শুরু হুয়া ইসলিয়ে রুক গয়ে। আপ লোগোকো ডড়নেকি জরুরৎ নেহি। আপ আরামসে বৈঠে। ইয়ে লিজিয়ে মেরা লাইসেন্স।" বলে ড্রাইভিং লাইসেন্স টা এগিয়ে দেয়। নিরুপায় হয়েই গাড়িতে ওঠে সবাই। তারপর অনন্ত, মোবাইলে গাড়ির নম্বর, লোকেশন, লাইসেন্সের ছবি শেয়ার করে কলকাতায় ভাই অসীম, দুই অফিস কলিগ ধর্মেন্দ্র ও শুভম এবং ড্রাইভার সুরেশের সাথে।

গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলতে শুরু করতেই বৃষ্টি আরও প্রবল হয়। মনে হচ্ছে আকাশ ভেঙে পড়বে। গাড়ির হেড লাইটে রাস্তার কিছুই ঠিকমত দেখা যাচ্ছে না। ওয়াইপারটা জল সেচে চলেছে সামনের কাঁচ থেকে। সারাদিনের ক্লান্তিতে ঋতু, ঋভু ঘুমিয়ে পড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই। গাড়ির ভেতরের লাইট নিভিয়ে পাকা হাতে স্টিয়ারিং ঘোরাচ্ছে গাড়ি চালক।

—"আপ কা নাম জান সাকতে হ্যায় কেয়া?" প্রশ্ন করে অনন্ত।

—"লাইসেন্স মে হি তো থা, দেখা নেহি? মেরা নাম মহেন্দ্র সিং যাদব।" সত্যি খেয়াল করেনি অনন্ত। একটু টেনশন হচ্ছে পরিবার সঙ্গে থাকায়। তবু কথা বলে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে চাইছে সে। ব্যাগের সাইড পকেটে শশা কাটা ছুরিটা আছে। পিস্তলের মুখোমুখি ওটা অকেজো, জানে অনন্ত। তবু, কিছুটা ভরসা।


গাড়ি এসে পড়ে সেই ভয়ঙ্কর পথে। রাস্তার দুপাশে মাইলের পর মাইল জুড়ে একমানুষ উচ্চতায় বুনো ঘাসের জঙ্গল। প্রায় রাতেই ডাকাতি, রাজনৈতিক খুন হয় এখানে। পথটা পেরোতে মিনিট দশ লাগে। মহেন্দ্র সিং গাড়ির স্পিড বাড়ায়। কিছুদূর যেতেই রাস্তার ওপর বড় বড় পাথর চোখে পড়ে। মহেন্দ্র সিং ওদের বলে মাথা নামিয়ে বসতে। অনন্ত- অহনার মাথা কাজ করছে না যেন। ছেলেমেয়েকে জড়িয়ে মাথা নোয়ায় ওরা। গাড়ির স্পিড কমে থেমে যায়। অনন্ত কোনরকমে ব্যাগ থেকে ছুরিটা হাতের মুঠোয় চেপে ধরে। অহনা মাথার কাঁটাটা খুলে হাতে নেয়। তারপরই ড্রাইভারের পাশের দরজা বন্ধ হবার আওয়াজ কানে আসে। চাবি ঘুরিয়ে স্টার্ট হয় গাড়ি। কিছুক্ষণ পর ওদের মাথা তুলতে বলে মহেন্দ্র। ফাঁকা রাস্তায় স্পীড বাড়ায় সে। কোয়ার্টারের সামনে নেমে টাকা দিতে যায় অনন্ত। হাতজোড় করে মহেন্দ্র বলে

—"আপ ঝাড়খণ্ড কি মেহেমান আছেন সাব। কাম করতে এসেছেন। হাম আপসে ইয়ে রুপিয়া নেহি লে সকতে। ইয়ে হামারী উসুল কী খিলাফ আছে।"

—"তাহলে একদিন আসবেন পরিবার নিয়ে, বোনের হাতের রান্না খেয়ে যাবেন।" বলে অহনা।

—"জি বহন জি, জরুর আসবে।"
বিদায় নেয় মহেন্দ্র।


ঘরের দরজায় পরে থাকা সকালের খবরের কাগজে মহেন্দ্রর ছবি দেখে চমকে ওঠে অনন্ত। আগের রাতে ব্যবসার কাজে কলকাতা যাবেন বলে নিজেই স্করপিও ড্রাইভ করে স্টেশনে যাবার পথে ঘাস জঙ্গলের রাস্তায় আক্রান্ত হন মহেন্দ্র সিং যাদব। তাঁর বুকে পেটে বাইশবার ভোজালির আঘাত করা হয়। পিস্তলের গুলিতে তিনিও তিন ডাকাতকে খতম করেন।


শোনা যায়, এরপর থেকে ঐ পথে ডাকাতির ঘটনা নাকি আর কখনও ঘটেনি। একা বা পরিবার সহ কেউ বিপদে পড়লে স্করপিওতে করে মহেন্দ্র আজও পৌঁছে দেন গন্তব্যে।

-সমাপ্ত-

জুঁই ভট্টাচার্য

 

0 Comments | 0 Claps
প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটার থেকে এক অনির্বচনীয় ভাল লাগায় অনিকেতের মন ভরে যেতে থাকে। এই ভাল লাগার সাথে পার্থিব কোন লাভ, ক্ষতি অথবা চাওয়া পাওয়া জড়িয়ে নেই। কোন সুখবর পাবার তাৎক্ষণিক তৃপ্তিও নেই। অথচ ওর ভাল লাগতে থাকে। ক্রমশ এক অনস্তিত্বের সৌরভে ওর ছোট্ট ফ্ল্যাট পরিপূর্ণ হতে থাকে। সহযোগী হয় ধূপের পবিত্র গন্ধ। সঙ্গীত মনের ওপর প্রবল প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে। সঙ্গীত হাসায়, কাঁদায়, প্রেম জাগায়, বিরহের আকুল পাথারে ভাসাতে পারে। সঙ্গীত প্রিয় অনিকেত সেটা জানে। কিন্তু গন্ধেরও এমন ব্যপ্তি থাকে বুঝি? আগে জানা ছিল না। এখন জেনেছে। প্রতিদিন এই সময় পাশের ফ্ল্যাটের মাসীমা স্নান সেরে ব্যাল্কনিতে বসে ধূপ ধুনো জ্বেলে বিড়বিড় করতে করতে পূজা করেন। একাত্ম মনে, চোখ বন্ধ করে। করজোড়ে কোন বিগ্রহ ছাড়াই এই পূজা তথা শ্রদ্ধা নিবেদন। মাসীমার পূজার এক পরোক্ষ সুফল ওঁর অজান্তে অনিকেতের পাওনা হয়। এই প্রাপ্তিকে ছোঁয়া যায় না। নীরবে উপভোগ করে ও। নিজের ফ্ল্যাটের ব্যাল্কনিতে চায়ের কাপ হাতে অনিকেত ভাবে একদিন তো জাগতিক নিয়মে ওঁর অস্তিত্ব বিলোপ হবে। এই ভাবনা কাম্য না হলেও চিরসত্যের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। তখন? হারিয়ে যাবে কয়েক হাত দূর থেকে ভেসে আসা ভাল লাগার কারণ। সেই গন্ধ। অজান্তে এক দীর্ঘশ্বাস বুক খালি করে বেরিয়ে নভোমণ্ডলে মিশে যায়।

Partha Ray

 

0 Comments | 0 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 775964

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1692

Total Number of Poems : 29317

Total Number of Prose : 1046

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS