New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose

তোমাকে এখনো খুঁজে বেড়াই।
পথের ভিড়ে --- অন্তরে বাহিরে।
দুটো ডাগর চোখের মাঝে বড় সাধারণ মুখ।
আমার কাছে অসাধারণ।
হতাশ হয়ে পড়ি, দীর্ঘশ্বাস পড়ে।
সান্তনা দেওয়ার জন্য কোন মুখে বসিয়ে নেই তোমার মুখ।
অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত।
কখনো নির্জনে "লেকে বা " ম্যাডাস স্কোয়ারে "।
" নন্দনকাননে " , " ভিক্টোরিয়ায় "।
কিংবা তোমার আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা বালি ব্রিজের উপর।
গঙ্গা আর দক্ষিণেশ্বরে অপূর্ব মেলবন্ধন।
কত সময় নিঃশব্দে অতিবাহিত হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।
এইতো সেদিন একটা কাজে আলিপুর গিয়েছিলাম।
বুকটা জ্বালা করে উঠলো।
কেন জানো! --- হঠাৎ দেখলাম হাঁটছি হর্টিকালচারের পাশ দিয়ে।
অনেক স্মৃতি ফিরে এসে সব এলোমেলো করে দিল।
একেক সময় মনে হয় তুমিও যেন ছায়ার মত আমাকে অনুসরণ করছো --- " কিন্তু কেউ কোথাও নেই "।
আলাদা করে কি বলবো? সারা শহর জুড়ে তুমি ছিলে, আছো, থাকবে।
এখন আর আগের মত হাঁটতে পারি না।
তবু তোমাকে খুঁজে বেড়াই।
ওটা আমার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে।
মনকে বোঝাই একদিন নিশ্চয়ই পাবো।
অনেকদিন ধরে একটা প্রশ্ন মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
" তুমি আমায় চিনতে পারবে তো "??
কেননা মাঝখানে অনেকটা সময় মোহনায় বয়ে গেছে।।

©®

ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়
০৫/০৮/২০২২

Phalguni chattopadhyay

 

0 Comments | 0 Claps
সেই বৃষ্টির দিনে

এই বৃষ্টির দিনে রোজ রোজ অফিস করে বিরক্ত হয়ে গিয়েছে অনিক । প্রতিদিন এই অফিস করা তার আর ভালই লাগছে না । এই বৃষ্টির জন্য অফিস তো ছুটি দিচ্ছে না বরং কাজের পরিমাণ দ্বিগুণ করে দিয়েছে । বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ছাতা টা বাড়িতেই ফেলে রেখে এসেছে । তাই মাঝে বৃষ্টি শুরু হতেই কাকভেজা হয়ে গেছে সে । বাসস্ট্যান্ডে এসে বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো , '' দূর এই বৃষ্টিটা মানে অফিস যাওয়ার সময় যত ঝামেলা , ভালই লাগে না । ''
বাসে উঠে জানলার পাশে সিট পেল সে । বাস স্ট্যান্ড থেকে তার অফিস ৪৫ মিনিট এর পথ।
জানলার বাইরের প্রকৃতি দেখছিল সে হঠাৎ বাস টা থেমে গেল অনিক বাসের দরজা লক্ষ্য করে দেখলো এক নাম না জানা মেয়ে উঠলো । নীল রঙের শাড়ি সঙ্গে মানাসই কানের দুল পড়েছিল । খুব একটা সাজগোজ করেনি সে ।কিন্তু তার মধ্যে এক আলাদাই মায়া রয়েছে যেটা অনিক বুঝতে পারল । মেয়েটি এসে অনিক এর পাশেই বসল । অনিক যেন তার থেকে চোখ সরাতেই পারছিল না । হঠাৎ মেয়েটা বলে উঠলো , '' আপনি কি কিছু বলবেন '' ।
অনিক রীতিমতো চমকে ওঠে আর আমতা আমতা ভাবে বলে ,'' না মানে আসলে ...''
মেয়েটি বলল ,'' বলুন না ''।
অনিক বলল , '' না মানে বলছিলাম আপনি কোথায় যাবেন ?
মেয়েটি খিলখিলিয়ে হেসে বলল '', এটা বলতে এতো ....বলে আবার হেসে উঠলো তারপর বলল আমি যাচ্ছি পার্ক স্ট্রিটে ঐখানে এক পোস্ট অফিসে কাজ করি , আপনি কথায় যাচ্ছেন ।
আমি বললাম , '' বা তা তো বেশ ভালই আমিও ঐখানে যাচ্ছি ঐখানে এক অফিসে আমিও কাজ করি ।
মেয়েটি বলল, '' বেশ তাহলে তো ভালই হল একসঙ্গে যাওয়া হবে আমাদের ''। আমিও মেয়েটির কথায় রাজি হলাম যাক ভালই হল একজন সঙ্গী পেলাম অফিস যাওয়ার একাকিত্ব ভাবটা দূর হবে এখন ।
এইভাবে কথা বলতে বলতে কখন যে অফিসে চলে আসলাম জানি না আমার অফিস থেকে আর ৫ মিনিট গেলে তার অফিস ।
অফিসে আসে কাজ শুরু করলাম ঠিক লাঞ্চ এর সময় তার কথা মনে পড়ল । মেয়েটির নাম দীপ্তি । ভারী মিষ্টি মেয়ে । আমার ইচ্ছে হল কালকেও যেন অফিস যাওয়ার সময় দীপ্তির সঙ্গে আমার দেখা হয়।
এর পরের দিন ঠিক সময় মতো তৈরি হয়ে বাসস্ট্যান্ডে গেলাম বাস চলে এলো কিন্তু সে এলো না । আমি এদিক সেদিকে দেখতে লাগলাম কিন্তু তবুও সে এলো না ।
কন্ডাক্টর বলল ,'' কি দাদা যাবেন না ''।
উত্তর দিলাম না চুপ করে থাকলাম হঠাৎ দেখলাম সে হাজির হল । আমাকে দেখে বলল ,'' আজ একটু দেরি হয়ে গেল ।''
যেন মনে হল সে জানে আমি তার জন্যই অপেক্ষায় রয়েছি।
বাসে উঠে দেখি সেই সিট দুটো যেখানে আমরা কাল বসেছিলাম সেই সিট দুটো আজও ফাঁকা যেন মনে হল সিট দুটো আমাদের জন্যই অপেক্ষায় রয়েছিল । তারপর বাসে সেইরকম কথা হল না আমি লজ্জা পাচ্ছিলাম তাই । বাস থেকে নেমে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হল দীপ্তির ছাতাতেই আমাদের শেষ রক্ষা হল ।
আমি বললাম ,'' এই হঠাৎ বৃষ্টিটা আমার ভাল লাগে না ।''
সে বলল ,'' কিন্তু আমার খুব ভাল লাগে কেন জানেন ?
আমি ভাবলাম কথা টা বলা হয়তো ঠিক হয়নি তখন আমতা আমতা ভাবে বললাম , কেন ?
সে বলল ,'' বৃষ্টিটা যখন পরে তখন আমার সব দুঃখ কষ্ট সব চলে যায় সবসময় মনে হয় বাবা মা আমার সঙ্গেই আছে আমার মতোই তাঁরাও এই বৃষ্টিটা উপভোগ করছে । ''
আমি একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম , '' বাবা মা সঙ্গে আছে মানে ?
সে বলল ,'' আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে আমার মা মারা যায় তার কয়েক মাস পর বাবা । তারা বেঁচে থাকা কালিন তাঁদের প্রিয় ঋতু ছিল বর্ষা আর বৃষ্টি ছিল খুবই প্রিয় । আর বলতেন , '' আমরা সারাজীবন তোর সঙ্গে থাকি কিংবা না থাকি এই বৃষ্টি হলে বুঝবি আমরা রয়েছি তোর সঙ্গেই তোর সঙ্গেই এই বৃষ্টি উপভোগ করছি । আর জানেন এই বৃষ্টিই বাবা মা এর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল তাঁদের প্রথম আলাপ এই বৃষ্টির দিনই হয়েছিল । ''
আমি বললাম ,'' তাহলে তো হিসেবে মতো আপনার নাম বৃষ্টি কিংবা বর্ষা রাখা উচিত ছিল দীপ্তি কেন ?
সে বলল , দীপ্তি নাম তা আমার ঠাম্মি রেখেছিল । বাবা মা এর ইচ্ছে ছিল বৃষ্টি রাখার ।
এইভাবেই আমাদের প্রতিদিন আলাপ হতে লাগলো ধীরে ধীরে ভালোবেসে ফেলাম তাঁকে তার মায়াবী চোখ আর সুন্দর লম্বা চুলের বিশাল বড় ভক্ত হয়ে উঠলাম আমি ।
কিন্তু হঠাৎ একদিন সে এলো না ফোন করেছিলাম কিন্তু ঢুকল না এইভাবে প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেল তার কোন খোঁজ পেলাম । এরপর বাধ্য হয়ে তার অফিসে গিয়ে তার ঠিকানা টা নিলাম । আর অবশেষ তার বাড়িতে গেলাম ।
Calling বেল বাজাতেই একজন বয়স্ক মহিলা দরজা টা খুলেন উনি কিছু বলার আগেই আমি বলে উঠি , '' দীপ্তি কোথায় ?
উনি বললেন , '' ভেতরে এসো ও ঘরে আছে ।
ঘরে ঢুকতেই রীতিমতো অবাক হয়ে গেলাম দিপ্তিকে দেখে । সে আর আগের মতো নেই তার চোখের নীচে কালো দাগ আর আগের মতো তার চোখ মায়াবী নেই আর সেই ঘন লম্বা চুল নেই মাথার সব চুল উঠে গেছে । তাঁকে দেখে মনে হল যেন অন্য এক দীপ্তিকে দেখছি ।
সে বলে উঠলো ,'' আপনি এখানে ?
আমি বেশ মনমরা হয়ে বললাম , অনেকদিন ধরেই আপনার সঙ্গে আলাপ নেই তাই আপনার অফিসে গিয়ে আপনার ঠিকানা নিয়ে চলে এলাম ।''
সে নরম কণ্ঠে বলল ,'' বেশ ভালই করেছেন দেখে নিন আমাকে আর তো মাত্র কয়েকদিন দেখে পাবেন তারপর । '' বলে থেমে গেল সে ।
আমি বললাম , তারপর কি দীপ্তি ?
সে বললো , '' ব্রেন ক্যানসার এর থার্ড স্টেজ আমার ডাক্তার বলে দিয়েছে আর বেশী দিন নেই আমার কাছে ।
তার কথা গুলো শুনে মন টা ভীষণ ভারী হয়ে গেল । বেশিক্ষন আর থাকতে পারলাম না মনের ভেতরটা কাচ এর মতো ভেঙে গেল যেটা আর জোড়া লাগবে না ।
পরের দিন আবার গেলাম তার বাড়িতে ।
সে বলল , '' এসেছেন ।
আমি বললাম , হ্যা । তবে আজকের জন্য না সারাজীবনের জন্য কোনোদিনও হারাবো না আপনাকে ।
সে হালকা হেসে বলল , '' সে তো আমিও চাই আপনি যেন আমার সঙ্গে সারাজীবন থাকেন কিন্তু সে তো আর সম্ভব না । মৃত্যুর পর কীভাবে থাকবেন আমার সঙ্গে কীভাবে দেখবেন আমাকে ?
আমি বললাম ,'' সেইভাবে থাকব আমি তোমার সঙ্গে যেইভাবে এই নীল আকাশের কালো মেঘ এর নিচে থাকবে এই বৃষ্টি । আপনি যেমন মনে করেন আপনার মা বাবা আপনার সঙ্গেই রয়েছে ঠিক সেইভাবেই আমিও থাকব আপনার সঙ্গে ।
সে বলল ,'' স্মৃতি । সেটা নিয়ে আর কতদিন বাচবেন । একদিন তো মুছেই যাবে ।
আমি বললাম ,'' মানুষ আমরা যায় ,তার শরীর পচে যায় কিন্তু স্মৃতি সে এক অদ্ভুত জিনিস তা ভোলা যায় না ।
সে বলল ,'' এতটা ভালবাসেন আমাকে ।
আমি বললাম , '' জানি না । কিন্তু যতটা ভালোবাসলে একজন একজন মানুষকে কোনওদিন ভোলা যাই না সে সঙ্গে থাকুক কিংবা না থাকুক তার স্মৃতি থাকে সারাজীবন তার প্রতি ভালবাসা থাকে হৃদয়ের মাঝে ঠিক ততটাই ভালবাসি আপনাকে । ''
সে বলল , বেশ তাহলে আমার কয়েকটা কথা রাখবেন ?
আমি বললাম ,'' হ্যা বলুন ''।
সে বলল , আমি চলে যাওয়ার পর চোখের জল ফেলবেন না । প্রতিদিন বা প্রায় আমার কথা ভেবে কাঁদবেন না । আর ভাববেন না যে আমি দূরে চলে গেছি সবসময় এটা ভাববেন যে আমি রয়েছি আপনার হৃদয়ের মাঝে ।
এই কথা গুলো বলতে বলতে হঠাৎ থেমে গেল সে তার চোখ দুটো বুঝে এলো । বুঝতে পারলাম সে চলে গেছে মুক্তি পেয়েছে এই শারীরিক যন্ত্রণা থেকে ।
এরপর আমি প্রায়ই তার কাছে যাই গাছের তলার মাটিতে সে শুয়ে আছে । সেখানে বসে থাকি আর তার সঙ্গে কথা বলি কিন্তু কোন উত্তর আসে না জানি সে আমার পাশেই রয়েছে দেখছে আমাকে । আর তখনি আমার কণ্ঠে শোনা যায় ,'' তোমারে যেন ভালবাসি আছি ,
শতরুপে শতবার
জনমে জনমে
যুগে যুগে
অনিবার ।
জানি সে শুনছে সব কারণ আমি ছাড়া তাঁকে আর কেউ দেখতে পায় না ।

কলমে - সোনিয়া সাহানী

Sonia

 

0 Comments | 0 Claps
গল্প
বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা মেলেনা
- জয় চক্রবর্তী

বর্ষাকাল তাই কদিন ধ'রেই ভালো বৃষ্টি হ'চ্ছে। কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় জল থৈ থৈ করছে। তারওপর আজ সারাদিন টানা পাঁচ ছ'ঘন্টা মুষলধারে বৃষ্টিতে সর্বত্র বেহাল অবস্থা। পার্ক সার্কাসে ট্রেনের লাইনে জল জমে গেছে। যতক্ষন না লাইন থেকে জল সরে যাচ্ছে, শিয়ালদহ থেকে কোন ডাউন ট্রেন ছাড়া যাবে না। পাম্প বসানো হ'য়েছে। জল সরানোর কাজ চলছে। বারবার রেলের মাইকে ঘোষনা করেই চলেছে। ডালহৌসি, সেন্ট্রাল এ্যাভেনিউ, শিয়ালদহ সব জায়গায় এক হাঁটুরও বেশি জল জমেছে। বহু কষ্টে জল এড়াতে বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে ঘুরে পরিশ্রান্ত হ'য়ে স্টেশনে পৌঁছে বরুণ দেখলো স্টেশনে যাত্রী গিজগিজ করছে। ট্রেন চলাচল চালু হ'লেও এখন বেশ কটা ট্রেনে ওঠাও যাবে না ভেবে একটা বসার জায়গা খুঁজে সেখানে বসে পড়লো বরুণ একটা বই খুলে। প্যান্টের নীচের দিকটায় শহরের নোংরা জলে ভিজে গিয়ে বেশ অস্বস্তি বোধ হচ্ছে। কিছুই করার নেই বাড়ি পৌঁছানোর আগে। একটা গল্পে ডুবে গিয়ে কতক্ষন কেটে গেছে হুঁস ছিল না বরুণের। হঠাৎ মাইকের ঘোষনায় যাত্রীদের হৈ হুল্লোড়ে শুনতে পেলো স্পেশাল ট্রেন ছাড়া হবে। এখন আর ট্রেনের আর কোন সময়সূচি নেই। সবই স্পেশাল ট্রেন। তখন প্রায় রাত্রি সাড়ে দশটা বেজে গেছে। এক এক করে ডায়মন্ডহারবার, লক্ষীকান্তপুর, বজবজ, ক্যানিং যাবার স্পেশাল ট্রেন বেশ অনেকটা সময় অন্তর ছাড়ছে। তা প্রায় রাত্রি সাড়ে এগারোটার সময় বরুণ একটা বারুইপুর যাবার ট্রেনে উঠতে পারলো। তার গন্তব্য সুভাষগ্রাম পৌঁছতে বারোটা পনেরো বেজে গেলো। ভেবেছিলো রিক্সায় চলে যাবে। কিন্তু চারদিক শুনসান। একটা কুকুর পর্যন্ত নেই ধারেকাছে, তো রিক্সা কোন ছাড়! বাড়ি যাবার পথে পুকুর রাস্তা সব এক হয়ে গেছে শুনে বরুণ তাই শীতলা মন্দিরে যাবার ঘুর রাস্তা ধরে যাবার মনস্থ করলো। কাল আর অফিস যাবো না ভাবতে ভাবতে এই গাঁদী পাড়ার কাছে আসতেই দেখতে পেলো সাদা কাপড় পরা দুটো মূর্তি একটু দূরে তার সামনে দাঁড়িয়ে কি করছে। বরুণ ভাবলো এই অন্ধকারে বৃষ্টিতে এরা কারা? হঠাৎ হাওয়া কেমন যেন গরম গরম বোধ হ'চ্ছে! তার শরীর টাও ক্রমশ ভারি হ'য়ে যাচ্ছে। বরুণ বৈজ্ঞানিক কারণ খুঁজতে খুঁজতে সেই জায়গায় আসতেই দেখলো কোথাও তো কেউ নেই। তবে কি অন্ধকারে দৃষ্টি ভ্রম! আবার এগিয়ে যেতেই একটা পেঁচা হঠাৎ ডানা ঝাপটে বিচ্ছিরি ভাবে ডেকে উঠলো আর পিছন থেকে কারা যেন বিকট স্বরে হেসে উঠলো। চমকে পিছন ফিরতেই দেখলো শিরিশ গাছের ডালটা নড়ছে তারপর সেখান থেকে সেই দুই মূর্তি লাফ দিয়ে নীচে নামলো । কিন্তু কোন আওয়াজ তো হলো না। মানুষ যদি হবে তবে অত উঁচু থেকে লাফ দিলে একটা আওয়াজ তো হবে! ঠিক সেই সময় বরুণের মনে পড়ে গেলো, ঐ শিরিষ গাছেই বছর পাঁচেক আগে দুই স্বামী স্ত্রী একসাথে গলায় দড়ি দিয়েছিলো। আশেপাশে যে একটা দুটো মাটির বাড়ি আছে সেখানে কোথাও আলো জ্বলছে না। বরুণ এবার ভীষণ ভয় পেয়ে খুব দ্রুত হাঁটতে লাগলো গলার পৈতে চেপে ধরে। কিন্তু সে যেন এগোতেই পারছে না। কে যেন তাকে টেনে রেখেছে পিছন থেকে। অথচ সেই দুই মূর্তি যেন হাওয়ায় ভেসে তার পিছনে এগিয়ে আসছে । আবহাওয়া আরো গরম হ'য়ে উঠেছে। এই বৃষ্টির মধ্যেই সে ঘামে ভিজে যাচ্ছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হ'য়ে গেছে। শ্বাস প্রশ্বাস নিতে তার খুবই কষ্ট হচ্ছে। তার মনে হচ্ছে সে এবার জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাবে। মনে সাহস এনে এবার সে দৌড়তে লাগলো। কতক্ষণ যে দৌড়ে ছিলো তার মনে নেই। শুধু মনে আছে, শীতলা মায়ের মন্দিরের একটু আগে আসতেই সব যেন আবার আগের মতই হয়ে গেলো। মন্দিরে আলো জ্বলছে, আবহাওয়া ঠান্ডা, তার শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক চলছে। সে ঘোষেদের পুকুরে ব্যাঙের ডাক শুনতে পাচ্ছে। অস্বাভাবিক কিছুই তো নেই! বরুণ একবার পিছনে অন্ধকারে ফিরে তাকালো। দেখলো সেই দুই সাদা মূর্তি হাওয়ায় ভেসে পিছন দিকে চলে যাচ্ছে। বরুণ বিজ্ঞানের ছাত্র। তার বুদ্ধিতে সে এর ব্যাখ্যা আজও খুঁজে পেলো না। তবে শুনেছিল যারা যারা রাতে ঐ রাস্তা দিয়ে ফিরেছে তারা আর দ্বিতীয়বার রাতে ওই রাস্তায় কখনও ফেরেনি।
- সমাপ্ত -

Joy Chakraborty

 

0 Comments | 0 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 1171808

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1794

Total Number of Poems : 33331

Total Number of Prose : 1329

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS