New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose

ছোট গল্প

## মী টু // কল্যাণ কুন্ডু

সংবাদপত্রের প্রতিনিধিদের সামনে মাইক্রো ভিডিও রেকর্ডার টা নামিয়ে রাখে ঐতিহ্যা। শান্ত গলায় বলে--" ইনভেষ্টিগেশনের সময় এটা পুলিশের হাতে তুলে দিতে চাই। আজকের ঘটনার রেকর্ডিং প্রমাণ হিসেবে এখানে রয়েছে"। তারপর, একাধিক সংবাদ মাধ্যমের বুম মুখের সামনে থেকে সরিয়ে দেয় সে। "- এ নিয়ে আর কি বলার আছে। আপনারা প্রশাসনিক ব্রিফিং নিয়ে বিষয়টি প্রচারে আনতে পারেন। আমি আমার বক্তব্য পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি।" বেশ দৃঢ়তার সাথে কথাগুলো বলে ঐতিহ্যা।

******-*****-*****-*****-*****-*****-*****

প্রতিদিনের মতো আজও সময়ে অফিসে আসে। বলতে গেলে তৈরী হয়েই এসেছিল। গলার সরু চেনটার সাথে যে লকেট ঝুলছিলো, সাধারণ চোখে লকেট মনে হলেও সেটা একটি মাইক্রো ভিডিও রেকর্ডার। ইন্দ্রজিতের সাথে কথা বলার পরই এই পরিকল্পনা নেয়। প্রতিদিনের লাঞ্ছনার একটা যবনিকা দরকার। মুখ বুজে সহ্য করার মেয়ে সে নয়।

অল্প কয়েকদিন হলো এই চাকরীতে যোগ দিয়েছে। অস্থায়ী কর্মচারী। চাকরীস্থলে দৈহিক ও মানসিক লাঞ্ছনার কথা শুনলেও নিজেকে এর মুখোমুখি হতে হবে কল্পনাও করেনি সে। এই কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টা অসহ্য হয়ে উঠছে। এসব কথা সবাইকে বলা যায় না। অনেক ভাবনা চিন্তার পর মাথায় আসে ইন্দ্রজিতের কথা। অফিস থেকে ফেরার পথে একটা চায়ের দোকানে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করে নেয় দুই বন্ধু। আইন প্রমাণ চায়। অভিযোগ করে তার প্রমাণ হাজির না করতে পারলে বিষয়টা আরো হাস্যকর হয়ে উঠবে। তাই পরিকল্পনা মতো মাইক্রো ভিডিও রেকর্ডার টা জোগাড় করে ইন্দ্রজিৎ। অবশ্য, এটা বিশ্বাসযোগ্য হবে কিনা, মনে সন্দেহ উঁকি দেয়নি, তা নয়। ডক্টরিং করা রেকর্ড বলে প্লী নেওয়া হয়ে থাকে আকছার। সহজেই চারিত্রিক দোষের উল্টো অভিযোগে দাগিয়ে দিতে বেশী সময় নেয় না অপরপক্ষ। পুলিশ প্রশাসন তদন্তের নামে যা করে সেখানেও সন্দেহ থেকে যায়।

ঐতিহ্যা কিছুটা ডেসপারেট হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন এই লাঞ্ছনা সহ্য করে চাকরি করার থেকে একটা কিছু করতেই হবে। মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে তার। এসব নিয়ে পরে ভাবা যাবে। ডাক পড়তেই, পরিকল্পনা মতো রেকডার অন করেই বসের চেম্বারে ঢোকে।

ধূর্ত শেয়ালের চোখ আপন গুহায় শিকারের আগমনে চকচক করে ওঠে। ডিক্টেশন টেবিলে বসামাত্র চেয়ার ছেড়ে ঐতিহ্যার পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়।অনুসাঙ্গিক কাজের কথা বলতে বলতে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে।
"-গায়ে হাত না দিয়ে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসুন।" ঠান্ডা গলায় প্রতিবাদ করে ঐতিহ্যা। বস কিছুটা বিস্মিত হয়। ঐতিহ্যা নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ঠোঁটের আগায় একটা ক্রুর হাসি খেলে যায় লোকটার। " চার্মিং ", বাঁধা না পেলে খেলাটা ঠিক জমে না । লোকটার হাত আরো অশ্লীল হয়ে ওঠে। রাগে, ঘৃণায় ঐতিহ্যার সারা শরীর কাঁপতে থাকে। নিজেকে মুক্ত করতে গিয়ে শাড়ীর আঁচলের পিন-করা অংশটা ছিঁড়ে যায়। পাশবিক শক্তিতে ঐতিহ্যার শরীরে ঝাপিয়ে পড়তে গেলে গ্রোয়েনে সজোরে লাথি মারে। মেঝেতে পড়ে ছটপট করতে থাকে অফিস বস।

ঐতিহ্যা চেম্বারের দরজা খুলে অন্যান্য সহকর্মীদের চিৎকার করে ডাকে।

*****-*****-******-*****--***-*****-****---***

পুলিশ, সংবাদ মাধ্যমের কাছে খবর যেতে মিনিটের ভগ্নাংশ সময় লাগলো না। অন্যান্য মহিলা কর্মচারীরা ঐতিহ্যাকে বুকে জড়িয়ে ধরে। কারো কারোর দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লেও মুখে একটা বিজয়ী হাসি দেখা যায়।। ঐ চেম্বারে কম বেশী অনেকেই এরকম অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে। তারা পারে নি। ঐতিহ্যা তাদের সকলের হয়ে প্রতিবাদ করেছে এবং সময় মতোই...।।

kalyan

 

3 Comments | 2 Claps
আসাম থেকে সদ্য স্কুলের গণ্ডী পেড়িয়ে বাবা মা ভাইদের ছেড়ে কোলকাতার কলেজে পড়তে এলো এক তরুণ। টেন প্লাস টু এডুকেশন সিস্টেমের প্রথম ব্যাচের তরুণটিকে অংকের প্রাইভেট টিউশনে যেতে হত আর এক সহপাঠীর বাড়িতে। একদিনের কথা। সেদিন স্যার আসেননি, ওই ছেলেটি গ্রুপের অন্য বন্ধুদের সাথে ওই বাড়ির ছাদের রেলিং এর ধারে দাঁড়িয়ে গল্পরত। হঠাৎ, হ্যাঁ বড়ই আচমকা, সেই ছেলের মুখের রা বন্ধ, চোখ সম্মোহিত। তার দৃষ্টির ওয়েভ লেংথের পরিধিতে এক ফর্সা মিষ্টি মুখের স্কারট ব্লাউজ পরিহিতা কিশোরী অবয়ব। মাথা নিচু করে হেঁটে যাচ্ছে। বহু অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হাফ সেঞ্চুরি পার করে আসা সেদিনের তরুণ আজ বুঝতে পারে, সেদিন মাথা নিচু করে হেঁটে গেলেও, ওই কিশোরী ছাদের রেলিঙে দাঁড়ানো ছেলেগুলির উপস্থিতির ব্যাপারে পুরো মাত্রায় সচেতন ছিল। এই বিশেষ ক্ষমতা ও দৃষ্টি মেয়েদের জন্মগত প্রাপ্তি। যাই হোক, আবার ফিরে যাওয়া যাক পুরনো দিনের গল্পে। তরুণটির কথা থামিয়ে এবং হা করে তাকিয়ে থাকান বাড়িওয়ালা বন্ধুটির নজর এড়ায় নি। সে বলল, “কি রে, তুই যে বাক্যিহারা হয়ে গেলি, ও আমাদের ঠিক পাশের একতলার বাড়িটাতে থাকে, ওর দাদা আমার বন্ধু। তুই চাইলে দাদা, বোন দুজনের সাথেই আলাপ করিয়ে দিতে পারি”। তরুণটি কি বলবে বুঝতে না পেরে চুপ করে রইল। আসলে তার তখন কথা বলার মতো অবস্থা ছিল না। তার হৃদয়ের সকল তন্ত্রীতে তখন এক অননুভূত ভাল লাগা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। বন্ধুর প্রস্তাব শুনে বুকের মধ্যে দ্রিমি দ্রিমি মাদল বেজে উঠল। সে সময় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটের যুগ ছিল না। তখন প্রেমিকার বন্ধু বা প্রেমিকের বন্ধু মিডিয়াম হত প্রেমের। ডাইরেক্ট “আমি তোমাকে ভালবাসি”, বা “ আমার তোমাকে ভাল লাগে, দেখা করতে চাই” মেসেজ পাঠানোর প্রথা প্রচলিত ছিলনা। কিছুদিন পর সেই বন্ধু কাঁচুমাচু মুখ করে এসে বলল, “বলেছিলাম তোর কথা, তোকেই সরাসরি কথা বলতে বলেছে”। শুনেই সেই তরুণের আত্মারাম খাঁচাছাড়া অবস্থা। ঘুম নিদ্রা গেল, কি ভাবে শুরু করবে, কি কথা বলবে, মেয়েটাই বা কি উত্তর দেবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। তখন আর একবন্ধু পরামর্শ দিল প্রেম পত্র দেবার। আর এক অধ্যায় শুরু হল। সম্বোধন থেকে মাঝের টেক্সট হয়ে এন্ড পর্যন্ত কি লেখা যায়। বহু কাগজ কালির শ্রাদ্ধ শান্তি শেষে এবং অনেক গবেষণার পর প্রথম চিঠি পৌঁছে গেল স্বস্থানে। এভাবেই শুরু হল চিঠি চালাচালি। প্রেম দানা বাঁধল। স্কুল ইউনিফর্ম পরা অবস্থাতেও রেস্তোরাঁতে, লেকের বেঞ্চে বসার মত সাহস অবশ্য দেখিয়েছিল সেই মেয়ে। সময়ের চাকা গড়িয়ে যায়। ইতিমধ্যে সেই তরুন গ্র্যাজুয়েট হল, চাকুরি খোঁজা শুরু করল। কিশোরী ঢুকল কলেজে। এলাকাতে ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে গেল। ছায়াছবিতে যেমন হয়, প্রেমের আকাশে ভিলেইনের অনুপ্রবেশ ঘটল। না, না অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। মেয়ের দাদা, ঠাকুরমা প্রবল বাধা হয়ে দাঁড়াল। গোঁড়া ব্রাহ্মন পরিবারের মেয়ের বেকার কায়স্থ ছেলের সাথে প্রেম? কভি নেহি। ইয়ে নেহি হো সেকতা। শুধু টিউশন করা সেই তরুনের পক্ষেও ওই ঝড় সামাল দেওয়া সম্ভব হলনা। তাছাড়া ইতিমধ্যে তার নিজের পরিবারেও নানা সমস্যা ঘনীভূত হচ্ছে। বাবা রিটায়ার করে এখানে চলে এলো। দুই ভাই পড়ছে। মেয়েটির ওপর নজরদারি বেড়ে গেল। দাদা অথবা মেয়েটির বাবা নিষ্ঠা ভরে প্রহরীর দায়িত্ব গ্রহণ করল। এই ধরনের প্রহরীর সাথে আর যাই হোক ঢিসুম ঢিসুম হয় না। মেয়েটির দাদার সাথে তরুণটির বন্ধুর এই ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া হয়ে যাওয়াতে সে আর চিঠি পৌঁছে দেবার গুরুভার দায়িত্ব অথবা দেখা করার কথাটুকুও জানাতে অক্ষম হল। গ্রাজুয়েশনের বছর তিনেক পরে, ভাল কোম্পানিতে চাকুরী পাবার পরে সেই তরুন একটা মরীয়া চেষ্টা করেছিল কিন্তু তখন দ্য গেম ওয়াজ ওভার। ইট ওয়াজ টু লেট। সময়ের কারুকার্যে দুজন দুপথে এগিয়ে গেল। এক ব্রাহ্মণ তনয়ের সাথে তার বিয়ে হয়ে গেল। এখন দুজনেই বিবাহিত, ঘোর সংসারী। অনেক বছরের অদেখা, কথা না বলার ফলে “হাই”, “হ্যালো”টুকুও অবশিষ্ট রইল না। কখনো, ক্বচিৎ কদাচিত দুজন মুখোমুখি হলেও সেদিনের তরুণ তার সুখের মেদ জমে পৃথুলা হয়ে যাওয়া প্রাক্তন প্রেমিকার মধ্যে সেই প্রথম দেখা কিশোরীকে খুজে পায় না। পাবে কি করে? তার মনের ক্যামেরার সাদা কালো রিলে মুখ নিচু করে হেঁটে যাওয়া সেই স্কারট–ব্লাউজ পরা কিশোরীর অবয়ব গাঁথা। তার প্রথম প্রেম। আজ পরিণত বয়েসে এসে সেদিনের সেই তরুণের মনে হয় ভাগ্যিস প্রথম প্রেম বিবাহিত জীবনের জাতাকলে বাঁধা পড়ে নি, তাই তো মনের মুকুরে আজও সেই প্রেমের বয়েস বাড়ে নি। চির বসন্তের পলাশ শিমুলের মতো কাব্যিক সুষমায় অমলিন, সুন্দর ও পবিত্র। (সম্পূর্ণ কাল্পনিক এই গুল গল্প)।
(সমাপ্ত)

Partha Ray

 

2 Comments | 0 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 257358

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1415

Total Number of Poems : 21775

Total Number of Prose : 505

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS