New User? | Forgot Password

Prose Library - Today's featured Prose

প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটার থেকে এক অনির্বচনীয় ভাল লাগায় অনিকেতের মন ভরে যেতে থাকে। এই ভাল লাগার সাথে পার্থিব কোন লাভ অথবা প্রাপ্তি জড়িয়ে নেই। কোন সুখবর পাবার তাৎক্ষণিক তৃপ্তিও নেই। অথচ ওর ভাল লাগতে থাকে। ক্রমশ এক অনস্তিত্বের সৌরভে ওর ছোট্ট ফ্ল্যাট পরিপূর্ণ হতে থাকে। সহযোগী হয় ধূপের পবিত্র গন্ধ। সঙ্গীত মনের ওপর প্রবল প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে। সঙ্গীত হাসায়, কাঁদায়, প্রেম জাগায়, বিরহের আকুল পাথারে ভাসাতে পারে। অনিকেত জানত। কিন্তু গন্ধেরও এমন ব্যপ্তি আছে? আগে জানা ছিল না। এখন জেনেছে। প্রতিদিন এই সময় পাশের ফ্ল্যাটের মাসীমা স্নান সেরে ব্যাল্কনিতে বসে ধূপ ধুনো জ্বেলে বিড়বিড় করতে করতে পূজা করেন। একাত্ম মনে, চোখ বন্ধ করে, করজোড়ে কোন বিগ্রহ ছাড়াই এই পূজা তথা শ্রদ্ধা নিবেদন। মাসীমার পূজার এক পরোক্ষ সুফল উনার অজান্তে অনিকেতের পাওনা হয়। এই প্রাপ্তিকে ছোঁয়া যায় না। নীরবে উপভোগ করে ও। নিজের ফ্ল্যাটের ব্যাল্কনিতে চায়ের কাপ হাতে অনিকেত ভাবে একদিন তো জাগতিক নিয়মে উনার অস্তিত্ব বিলোপ হবে। এই ভাবনা কাম্য না হলেও চিরসত্যের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। তখন? হারিয়ে যাবে কয়েক হাত দূর থেকে ভেসে আসা ভাল লাগার কারণ, সেই গন্ধ। অজান্তে এক দীর্ঘশ্বাস বুক খালি করে বেরিয়ে নভোমণ্ডলে মিশে যায়।

Partha Ray

 

0 Comments | 0 Claps
আসক্তি

রাজু কর্মকার


অসম্ভব ভিড় ট্রেনে । বাবার বিরক্তির চাহনির ভাষা বুঝে নেট অফ করে মোবাইলটা ব্যাগে রাখে বুবুন ,হেড ফোনটাকে কান হতে মুক্ত করে । মনটা কিন্তু উসখুস করছে তার । কত সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকতে হবে কে জানে । দম বন্ধ হয়ে আসছে তার । ব্যাংক ম্যানেজার বাবা পদোন্নতি পেয়ে ঝাড়খণ্ডে আছেন , ছুটি কাটিয়ে আজ ফিরছেন । তাই এক সাথে যাবার সুযোগ এসেছে । তাতে বাবা যতটা আমোদিত , পুত্র ততটাই বিরক্ত । মোবাইল ব্যবহার করলে ঘ্যানঘ্যান করছে , রুমকিকেও whatsapp এ জানিয়ে দেয় ..আজ এক সাথে যাওয়া হবে না , বাবা আছে , দমদমে নেমে 1 নম্বরে wait করো । .. বাবা ছেলের বিরক্তি টের পান ..কিরে ..মুখ গোমড়া করে আছিস । বুবুন অভিমানে অন্য দিকে মুখ ফেরায় । কিছু সময় পর দমদম স্টেশনে নেমে কোনোরকমে বাবার উদ্দেশ্যে দায় সারা হাত নেড়ে হেড ফোন লাগিয়ে হুড়মুড়িয়ে নেমে এক নম্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় , নিমেষের মধ্যে ডাউন রানাঘাট লোকাল উপর দিয়ে চলে যায় ..বাবা "সাবধানে " কথাটি শেষ না করার আগেই সব শেষ হয়ে যায় । বাবার জ্ঞান ফেরে হাসপাতালে ।

Raju karmakar

 

0 Comments | 0 Claps
বারো বছরের ছোট্ট মেয়ে রূপালীকে নিয়ে উপেন কোলকাতায় গেছে মেয়ের ফ্রক কিনতে।গত মাসের সংসার খরচ থেকে বাঁচানো হাজার টাকাই সম্বল, তাছাড়া মেয়ে কোনদিন কোলকাতা দেখেনি,তাই তাকে এবার নিয়ে আসা।হাঁ করে দেখছিল সে চারিপাশ।হাওড়া ব্রীজ, রাজভবন যত দেখছে তত সে অবাক হচ্ছে।বাস থেকে নেমে অবশেষে তারা ধর্মতলায় পৌঁছাল।দু একটা দোকানে জামা দেখে তাদের পছন্দ হল বটে কিন্তু দাম বড্ড বেশি মনে হল। যাইহোক রূপালীকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখে উপেন একটা ছোট দোকানে কিছু জানতে গেল। এমনসময় একটা বড় গাড়ি রূপালীর সামনে এসে দাঁড়ালো।গাড়ির জানালার কাঁচ সরিয়ে একজন মাঝবয়সী লোক তাকে জিজ্ঞাসা করল'কত'? সে তো কিছুই বুঝতে পারলনা। অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল 'কি বলছেন'? লোকটা আবার বলল 'কত'? এমনসময় উপেন দৌড়ে মেয়ের কাছে এসে উপস্থিত হল।খুব রেগেমেগে চিৎকার করে লোকটাকে বলল"যান এখান থেকে,কি চাই,এটা আমার মেয়ে,চলে যান নাহলে পুলিশ ডাকবো"। গাড়ির জানালার কাঁচ উঠিয়ে লোকটা মাথা নীচু করে চলে গেল। রূপালী বাবাকে জিজ্ঞেস করল'কি হয়েছে বাবা, তুমি এত রেগে গেছ কেন?'তার বাবা বলল'অচেনা মানুষের সাথে আর কোনদিন ও কথা বলবেনা, কথাটা মনে রাখবে তো?'ঠিক আছে বাবা,তাই হবে'।এরপর চলল তারা নতুন দোকানের সন্ধানে যেখানে সস্তা কিন্তু সুন্দর একটা ফ্রক রূপালীর জন্য পাওয়া যেতে পারে।

Sarmistha Majumdar

 

0 Comments | 0 Claps

All Prose

Events

Surojit Online

কবিতাক্লাব ডট কম

এই তো সেদিন, ফেসবুকের পেজে লিখলাম একটা লাইন , “আর ভাল্লাগেনা তোমায় ছাড়া।”বন্ধুদের বললাম, সবাই মিলে কবিতা লিখলে কেমন হয়? হঠাৎ দেখি , চার পাতার একটা কবিতা তৈরি হলো, একেবারে চোখের সামনে, সব বন্ধুদের লেখা, মিলিয়ে মিলিয়ে।

See BLOG Read More

Search Writing

 

Search Writer By

 

Statistics

Number of VISITORS : 537321

REGISTERED USERS :

Number of Writers : 1595

Total Number of Poems : 25855

Total Number of Prose : 815

An Initiative By Surojit O Bondhura Kobita Club
Official Radio Partner

Designed and Developed by : NOTIONAL SYSTEMS